- জীবনযাপন তথ্য
সন্তান জন্মের আগে অনেক অভিভাবকেরই একটি স্বাভাবিক উদ্বেগ থাকে—শিশু সুস্থভাবে জন্ম নেবে তো? এই আশঙ্কার পেছনে অন্যতম কারণ জন্মগত ত্রুটি। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু কোনো না কোনো জন্মগত শারীরিক ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসে।
জন্মগত ত্রুটি বলতে এমন কোনো গঠনগত বা শারীরবৃত্তীয় সমস্যা বোঝায়, যা শিশুর জন্মের সময়ই উপস্থিত থাকে। কিছু ত্রুটি সামান্য হলেও কিছু ক্ষেত্রে তা শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করতে পারে, এমনকি নবজাতকের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
ত্রুটি হতে পারে দুই ধরনের
জন্মগত সমস্যাগুলোকে সাধারণভাবে ছোট ও গুরুতর—এই দুই ভাগে দেখা হয়।
ছোটখাটো ত্রুটি:
এসব সমস্যায় সাধারণত শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের বাধা তৈরি হয় না। যেমন বাড়তি আঙুল বা অতিরিক্ত স্তনবৃন্ত।
গুরুতর ত্রুটি:
এ ধরনের সমস্যা শিশুর শারীরিক বিকাশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ঠোঁট বা তালু কাটা, হৃদ্যন্ত্রে ছিদ্র, পায়ুপথের ত্রুটি কিংবা মেরুদণ্ডের জন্মগত সমস্যা এর উদাহরণ।
কেন দেখা দেয় জন্মগত ত্রুটি?
সব জন্মগত ত্রুটির নির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। কিছু ক্ষেত্রে জেনেটিক বা বংশগত বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টি, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং পরিবেশও শিশুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- পরিবারের কারও জন্মগত ত্রুটির ইতিহাস থাকা
- মায়ের অপুষ্টি
- নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে
- গর্ভাবস্থায় ধূমপান বা মাদক গ্রহণ
- রুবেলা ও অন্যান্য সংক্রমণ
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ চিকিৎসা গ্রহণ
- ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার সংস্পর্শ
- দূষিত বা অনিরাপদ খাবার গ্রহণ
আগে থেকেই সতর্কতা জরুরি
গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময় থেকেই মায়ের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা, সংক্রমণ থেকে সতর্ক থাকা এবং গর্ভাবস্থায় নিজের ইচ্ছায় কোনো ওষুধ না খাওয়ার মতো পদক্ষেপ জন্মগত ত্রুটির কিছু ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তাই সন্তান নেওয়ার আগে ও গর্ভাবস্থায় সচেতনতা, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
