ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » শাকিরা-পিকের বিলাসবহুল বাড়িটি কিনে নিলেন লামিন ইয়ামাল

শাকিরা-পিকের বিলাসবহুল বাড়িটি কিনে নিলেন লামিন ইয়ামাল

মাঠের ভেতরে তাঁর পারফরম্যান্স যতটা আকর্ষণীয়, মাঠের বাইরের জীবনটাও ততটাই চমকপ্রদ। বয়স মাত্র ১৯ ছুঁয়েছে, অথচ ফুটবল বিশ্বে ইতোমধ্যেই একাধিক ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের এই তরুণ উইঙ্গার এবার খবরে এলেন ফুটবলের বাইরে এক রাজকীয় বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনে। স্পেনের বার্সেলোনার অন্যতম আকর্ষণীয় প্রপার্টি—পপ তারকা শাকিরা এবং সাবেক বার্সা কিংবদন্তি জেরার্ড পিকের বিখ্যাত প্রাসাদটি এখন ইয়ামালের নতুন ঠিকানা।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্টের প্রতিবেদন, ১ কোটি ইউরোরও বেশি মূল্যের এই প্রাসাদটি কেনার মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তরুণ তারকা নিজের জীবনযাপনে এক নতুন মাত্রা যোগ করলেন।

রোকাপোন্দা থেকে রাজকীয় প্রাসাদ— ইয়ামালের পথচলাটা কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ২০২৩ সালে বার্সেলোনা মূল দলে অভিষেক, আর এর কয়েক মাসের মধ্যেই জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে ইতিহাস গড়া। ইতোমধ্যেই তাঁর ঝুলিতে রয়েছে তিনটি লিগ শিরোপা, ইউরো কাপ এবং বিশ্বকাপ শিরোপা। বার্সেলোনা ও স্পেন—দুই দলের জন্যই তিনি এখন অপরিহার্য ফুটবলার।

ইয়ামালের নতুন এই বাংলোটি অবস্থিত বার্সেলোনার অন্যতম অভিজাত এলাকা এস্প্লুগেস দে ইয়োব্রেগাতের ‘সিউদাদ দিয়াগোনাল’ আবাসিক কমপ্লেক্সে। ২০১২ সালে স্থপতি মিরিয়া আদমেতলের এর নকশা তৈরি করেছিলেন। পুরো সম্পত্তিটি ৩৮০০ বর্গমিটারের ওপর নির্মিত, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি মূল তলা এবং দুটি ভূগর্ভস্থ তলা।

বিশাল এই প্রাসাদের ভেতরে রয়েছে চোখধাঁধানো সব আয়োজন। জলপ্রপাতসহ বাইরের সুইমিং পুল, একটি ইনডোর সুইমিং পুল, নিজস্ব জিমনেসিয়াম, প্যাডেল কোর্ট এবং একটি মিনি প্রাইভেট ফুটবল মাঠ খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করে। বিনোদনের জন্য এতে যুক্ত রয়েছে বিশাল সিনেমা হল, ওয়াইন সেলার এবং একটি পেশাদার রেকর্ডিং স্টুডিও, যা একসময় শাকিরা নিজে ব্যবহার করতেন। বিশাল কাঁচের জানালা দিয়ে ভূমধ্যসাগর ও পুরো বার্সেলোনা শহরের মনোরম দৃশ্য একপলকেই উপভোগ করা যায়।

বাড়িটির ইন্টেরিয়রে শাকিরার সময়ের আধুনিক ও উজ্জ্বল আলো-আঁধারির নকশা অপরিবর্তিত রেখেছেন ইয়ামাল। তবে যোগ করেছেন নিজের ব্যক্তিগত স্পর্শ। ক্যারিয়ারের ছোট কিন্তু সফল পথচলায় অর্জিত ট্রফি, পুরস্কার ও স্মারকচিহ্নগুলো বিশেষ যত্ন নিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন বাড়িটির আনাচে-কানাচে।

পুরো কম্পাউন্ডটিতে মূলত চারটি আলাদা বাড়ি রয়েছে। একটি ছিল পিকের বাবা-মায়ের, একটি শাকিরার বাবা-মায়ের, আর মূল প্রাসাদটিতে এখন থেকে বসবাস করবেন ইয়ামাল। চতুর্থ বাড়িটিতে এখনো সংস্কারকাজ বাকি। পাহাড়ের উঁচুতে অবস্থিত হওয়ায় এই প্রাসাদ থেকে একনজরে পুরো শহরকে চমৎকার দেখায়।

বাড়িটির হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস। দুই পক্ষের আইনজীবীদের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়, যেখানে পিকের বা শাকিরার সরাসরি কোনো উপস্থিতি ছিল না। ১৮ বছর বয়সে চুক্তি শুরু করে অবশেষে এই ঐতিহ্যবাহী প্রাসাদের মালিক হলেন ইয়ামাল। যে বাড়িটি একসময় শাকিরা ও পিকের বহু পারিবারিক স্মৃতির সাক্ষী ছিল, সেটিই এখন এই তরুণ ফুটবল তারকার সাফল্য ও স্থিতিশীলতার নতুন রাজকীয় ঠিকানা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে