ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসা: আশার নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসা: আশার নতুন দিগন্ত

 

মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে কিডনি অন্যতম। শরীরের বর্জ্য অপসারণ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষায় কিডনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কিডনি রোগ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে বহু মানুষ দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেলে রোগীর সামনে দুটি পথ খোলা থাকে—ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন। এর মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপনকে সবচেয়ে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। কয়েক দশক আগে এ ধরনের চিকিৎসা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং ব্যয়বহুল। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। বিশেষ করে CKD & Urology Hospital, Bangabandhu Sheikh Mujib Medical University, National Institute of Kidney Diseases & Urology, Kidney Foundation Hospital and Research Institute এবং Dhaka medical college & Hospital এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসকদের কারণে বর্তমানে প্রতিস্থাপনের সফলতার হারও অনেক বেড়েছে।

 

কিডনি প্রতিস্থাপন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একজন সুস্থ মানুষের কার্যকর কিডনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কিডনি বিকল রোগীর শরীরে স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশে সাধারণত নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে কিডনি নেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তান কিংবা স্বামী-স্ত্রী কিডনি দান করতে পারেন। যদিও বিশ্বের অনেক দেশে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান জনপ্রিয়, বাংলাদেশে এখনো এ ব্যবস্থা খুব সীমিত।

 

কিডনি প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি ডায়ালাইসিসের তুলনায় তুলনামূলক সাশ্রয়ীও হতে পারে। তবে প্রতিস্থাপনের পর রোগীকে সারাজীবন কিছু বিশেষ ওষুধ সেবন করতে হয়, যেমন Tacrolimus ও Mycophenolate mofetil। এসব ওষুধ শরীরকে নতুন কিডনি প্রত্যাখ্যান করা থেকে রক্ষা করে।

 

তবে বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, ডোনারের অভাব একটি বড় সমস্যা। সচেতনতার অভাব এবং ধর্মীয় ভুল ধারণার কারণে অনেক মানুষ অঙ্গদানে আগ্রহী নন। দ্বিতীয়ত, চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। বেসরকারি হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপনে কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এছাড়া প্রতিস্থাপনের পর দীর্ঘমেয়াদি ওষুধের খরচও কম নয়।

 

এ সমস্যা সমাধানে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অঙ্গদান বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারি সহায়তা বাড়ানো এবং জেলা পর্যায়ে কিডনি চিকিৎসা সম্প্রসারণ জরুরি। একই সঙ্গে মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ব্যবস্থা কার্যকর করা গেলে হাজারো রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

 

পরিশেষে বলা যায়, কিডনি প্রতিস্থাপন চিকিৎসা বাংলাদেশে নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে। যদিও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে এ খাত আরও উন্নত হবে বলে আশা করা যায়। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কিডনি রোগীদের জন্য একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।

রাকিবুল আহসান
রেজিস্টার্ড ফার্মাসিস্ট

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে