ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » ফ্রান্সে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতা, ২৪০০ জন গ্রেপ্তার

ফ্রান্সে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সহিংসতা, ২৪০০ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি পরিষেবার মান অবনতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমগ্র ফ্রান্স। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় প্যারিসসহ একাধিক বড় শহরে দফায় দফায় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাটের পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে নাগরিকদের শান্ত থাকার ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।

এলিসি প্যালেস থেকে দেওয়া জরুরি ভাষণে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ চরম বিশৃঙ্খলা ও ধ্বংসযজ্ঞে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা সবাই গভীর ক্ষোভ ও লজ্জা অনুভব করছি। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষের যৌক্তিক দাবি প্রকাশের সঙ্গে সহিংস ভাঙচুর ও লুটপাটে লিপ্ত ব্যক্তিদের অপকর্মকে কোনোভাবেই এক করে দেখা যাবে না।”

লিমোজের ঐতিহাসিক সিটি হল ছাই, সর্বত্র রণক্ষেত্র

সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে অন্তত সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভকারীদের বড় অংশ শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করলেও মুখোশধারী চরমপন্থী গোষ্ঠী ও দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়।

সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে সেন্ট্রাল ফ্রান্সের লিমোজ শহরে। সেখানে দাঙ্গাকারীরা ঊনবিংশ শতাব্দীর (১৮৭৩ সালে নির্মিত) ১৪৩ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক সিটি হলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে ভবনের প্রাচীন ঘড়ির টাওয়ার ও ছাদ ধসে পড়ে এক অপরপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। এছাড়া লিঁও শহরের পর্যটন কার্যালয় এবং রাজধানী প্যারিস, মার্সেই, লিল ও বোর্দোর একাধিক সরকারি কার্যালয় ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়।

আহত ১ হাজার পুলিশ, গ্রেপ্তার ২৪০০

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশজুড়ে সহিংসতা রোধে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ১ হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাজধানী প্যারিসের প্লেস দে লা রেপাবলিকসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অগণিত কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে দাঙ্গা পুলিশ। পাল্টা জবাবে বিক্ষোভকারীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর, পেট্রোল বোমা ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে কাদা ছোড়াছুড়ি

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলোর সমর্থনে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আসন্ন নির্বাচনের মুখে এই সংকট মাখোঁ সরকারের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করেছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ অভিযোগ করেছেন, সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ আন্দোলনকে পুঁজি করে কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠী ও সুযোগসন্ধানী অপরাধী চক্র সহিংসতা ও লুটপাট উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, কট্টর বামপন্থী দল ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিস’-এর শীর্ষ নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ সরকার ও পুলিশ প্রধানদের চরম ব্যর্থ ও ‘সংগঠিত বিশৃঙ্খলা তৈরির কারিগর’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেছেন। কট্টর ডানপন্থী নেত্রী মারিন ল্য পেনও রাজনৈতিক স্বার্থে সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেওয়ার তীব্র নিন্দা জানান।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে