ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে দুর্গন্ধযুক্ত বনরুটি

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে দুর্গন্ধযুক্ত বনরুটি

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্গন্ধযুক্ত বনরুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। একই ধরনের নষ্ট বনরুটি এর আগেও দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

শনিবার দুপুরে উপজেলার ১৮ নম্বর পশ্চিম কৈখালী, ১৭৮ নম্বর মহাজেরিন ও ১৩২ নম্বর মধ্য কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্গন্ধযুক্ত এসব রুটি সরবরাহ করা হয়। এসব বনরুটি ওজনে অন্তত ১০ গ্রাম করে কম বলেও এসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অভিযোগ তুলেছেন।

খবর পেয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলনের পক্ষ থেকে আজ সব বিদ্যালয়ে রুটি বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে প্রধান শিক্ষকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

শিশু শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে সরকারি নির্দেশনায় সারাদেশের মতো শ্যামনগরেও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। যার অংশ হিসেবে সপ্তাহে পাঁচ দিন তাদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে বনরুটির সঙ্গে পালা করে দুধ, ডিম ও কলা বিতরণ করা হচ্ছে। সুশীলন নামে একটি এনজিওর ওপর শ্যামনগর উপজেলার ১৯১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের হাতে এ খাবার পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছে।

১৮ নম্বর পশ্চিম কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাসিমা আক্তার বলে, তার বনরুটি প্যাকেট থেকে বের করার পর গন্ধ বের হচ্ছিল। খাওয়ার সময় তিতা লাগলে বিষয়টি তার কয়েকজন সহপাঠী শ্রেণি শিক্ষককে জানায়। পরে রুটির গায়ে ময়লা থাকার কথা বলে শিক্ষকরা তাদের এটি খেতে নিষেধ করেন। ঈদের ছুটির পর বিদ্যালয় খোলার পর কয়েক দিন ধরে একই ধরনের দুর্গন্ধযুক্ত বনরুটি দেওয়া হয়েছিল বলেও জানায় শিশুটি।

১৩২ নম্বর মধ্য কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, আজ বনরুটির প্যাকেট থেকে খুলতেই বিশ্রী গন্ধ বের হতে থাকে। এ সময় শিক্ষকরা চেক করে রুটির গুণগতমান নষ্ট হয়েছে বুঝতে পেরে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ বন্ধ করে দেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। খাদ্যের মান যাচাইয়ে গঠিত কমিটির সদস্যরা প্রতিটি বনরুটির ওজন ১০ গ্রাম করে কম পেয়েছেন বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। এর আগে অন্য কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে একই ধরনের অভিযোগ তাদের জানানো হয়।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক জানান, ‘সুশীলন’ শ্যামনগরের ১৯১টি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য খাবার সরবরাহ করছে। শনিবার বনরুটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় তার গুণগতমান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর সবগুলো বিদ্যালয়কে এ রুটি গ্রহণে নিষেধ করার পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যেসব বিদ্যালয় বনরুটি গ্রহণ করেছিল তাদের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তা বিতরণে নিষেধ করা হয়।

সুশীলনের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, শ্যামনগর উপজেলায় ২৬ হাজার বনরুটি সরবরাহ করা হয়। তাই দু-একটি বনরুটি দিয়ে সবগুলোর ওজন নিরূপণ করা সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, শনিবার রুটিগুলো নষ্ট হওয়ায় কাউকে খেতে দেওয়া হয়নি। আগেও দুর্গন্ধযুক্ত রুটি সরবরাহের বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে বারবার এমন নষ্ট খাবার সরবরাহ করায় শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে উৎকণ্ঠায় পড়েছেন অভিভাবকমহল। দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে