ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » নিরাপদে থাকতে পারতেন মাহেরীন কিন্তু তিনি যেন সবার ‘মা’

নিরাপদে থাকতে পারতেন মাহেরীন কিন্তু তিনি যেন সবার ‘মা’

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: আজ সেই ভয়ংকর দিন।২০২৫ সালের এ দিনে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণের বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। পাইলট, এক শিক্ষিকা এবং ২৮ শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত হন আরও বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী।

এ ট্র্যাজেডিতে নিজের জীবন দিয়ে বাঁচাতে এগিয়ে যান মহীয়সী নারী। তার নাম মাহেরীন চৌধুরী। অন্যদিনে মতো সেদিনও মাহেরীন চৌধুরী গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পরম স্নেহে বাচ্চাদের তুলে দিচ্ছিলেন অভিভাবকদের হাতে। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ বিমান বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে স্কুলভবনের ওপর।

আর তখনই বিমানটি বিল্ডিং ভেদ করে মাটির নিচে ঢুকে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। শুরু হয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আগুনের লেলিহান শিখা। প্রাণহানির সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৩২ জনে।

সেসময় চাইলে মাহেরীন নিজেকে বাঁচিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারতেন।

কিন্তু নিজের প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন আগুনের কুণ্ডলীতে, তাঁর প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে। ভয়াবহ বিপদকে উপেক্ষা করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যেন এক মমতাময়ী মা।
ঝাঁপিয়ে পড়েন আতঙ্কিত শিশুদের বাঁচাতে। চারিদিকে আগুনের ধোঁয়া। কিন্তু তিনি বাচ্চাদের বলতে থাকেন, ‘‘ভয় পেয়ো না, দৌড়াও সামনের দিকে, পেছনে তাকিও না। আমি আছি তোমাদের সঙ্গে।’

নিজেও আগুনের তোয়াক্কা না করে আগুনের ভেতর ঢুকে বাচ্চাদের উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। অন্তত ২০জন বাচ্চাকে আগুনের ভেতর থেকে বের করেন।

উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া এক সেনাসদস্য সেদিন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘ম্যাডাম একে একে বাচ্চাগুলো বের করে দিচ্ছিলেন, কিন্তু নিজে আর বের হতে পারেননি।’
কারণ মাহেরীন ততোক্ষণে নিজেই ভয়াবহভাবে অগ্নিদগ্ধ। তাকে ভর্তি করা হয় ঢাকার জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে। তার শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। বেঁচে থাকার কোনো আশাই ছিল না। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে বারবার বলছিলেন, ‘আমার বুক-পেট সব জ্বলে যাচ্ছে। কিন্তু আমার অনেক বাচ্চাই বেঁচে গেছে। ’

লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পর তার স্বামী মনসুর হেলালের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। মনসুর তার কাছে জানতে চান, ‘কেন এ কাজ করতে গেলে, তোমারও তো দুটি সন্তান আছে?’
উত্তরে মাহেরীন বলেন, ‘আমার বাচ্চারা আমার সামনে সব পুড়ে মারা যাচ্ছে, আমি এটা কীভাবে সহ্য করি!’

২১ জুলাই রাতেই যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে মারা যান মাহেরীন। নীলফামারীর জলঢাকার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ার তিনি এখন চিরতরে ঘুমিয়ে আছেন, রেখে গেছেন চোখের জলে ভাসানো এক বীরত্বের উপাখ্যান।

মাহেরীন চৌধুরী কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না; ছিল তার ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিচয়। কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি কখনোই সেই পরিচয় দেন নি। তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাতিজি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চাচাতো বোন।

সমাজসেবায় গৌরবোজ্জ্বল কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে মাহেরীন চৌধুরীকে। গত ১৬ এপ্রিল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মাহেরীনের স্বামী মনসুর হেলাল।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে