ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » নারীদের মাইগ্রেন বেশি হওয়ার নেপথ্য কারণ

নারীদের মাইগ্রেন বেশি হওয়ার নেপথ্য কারণ

জীবনযাপন ডেস্ক

মাসের একটি নির্দিষ্ট সময় এলেই অসহ্য মাথাব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন অনেক নারী। কখনো তীব্র আলো সহ্য হয় না, কখনো সামান্য শব্দেও তৈরি হয় অস্বস্তি। সাথে যোগ হতে পারে বমি ভাব, মাথা ঘোরা কিংবা স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি ব্যাহত হওয়ার মতো অনুভূতি। বহু নারীর কাছে মাইগ্রেন কেবল একটি শারীরিক অসুস্থতা নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ছন্দ এলোমেলো করে দেওয়া এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা।

তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি বড় প্রশ্ন—পুরুষের তুলনায় নারীরা কেন মাইগ্রেনে বেশি আক্রান্ত হন?

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের মাইগ্রেনের ঝুঁকি পুরুষের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। বিশ্বজুড়ে প্রতি সাতজনের মধ্যে অন্তত একজন মাইগ্রেনের সমস্যায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝুঁকির অন্যতম বড় কারণ হরমোনের তারতম্য। তবে কেবল হরমোন নয়; অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘক্ষণ অনাহারে থাকা, ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়িয়ে দেয়।

মাইগ্রেন আসলে কেন হয়?

মাইগ্রেন মূলত একটি বংশগত ও স্নায়বিক (নিউরোলোজিক্যাল) জটিলতা। এই সমস্যায় মস্তিষ্ক বাইরের ও ভেতরের যেকোনো পরিবর্তনের প্রতি সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। অনেকের শরীরে মাইগ্রেনের জিন থাকলেও সবার মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায় না। বিভিন্ন পারিপার্শ্বিক উদ্দীপক মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুপথকে সক্রিয় করে তুললেই মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়। তবে এই উদ্দীপক বা ট্রিগার সবার জন্য এক নয়; একজনের যা সমস্যা বাড়ায়, অন্যের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে।

নারীদের ওপর হরমোনের প্রভাব

শৈশবকালে ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে মাইগ্রেনের হার প্রায় সমান থাকলেও বয়ঃসন্ধির পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। বিশেষ করে মেয়েদের ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বাড়ে। মাসিকের ঠিক পূর্বে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা হঠাৎ কমে যায়, যা নারীদের মাইগ্রেনের ঝুঁকি ও ব্যথার তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।

পরবর্তী বয়সে পেরিমেনোপজ বা মেনোপজের আগের সময়টিতেও হরমোনের দ্রুত ওঠানামা ঘটে। ফলে এই সময়েও সমস্যাটি প্রকট হতে পারে, যার সঙ্গে যোগ হয় ঘুমের ব্যাঘাত ও পারিবারিক মানসিক চাপ। তবে মেনোপজ বা রজোনিবৃত্তির পর হরমোনের মাত্রা স্থিতিশীল হয়ে এলে অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাইগ্রেনের ব্যথার তীব্রতা ও আক্রমণের হার ধীরে ধীরে কমে আসে।

জীবনযাত্রার ভূমিকার গুরুত্ব

মাইগ্রেন অধিকাংশ সময়ই একক কোনো কারণে হয় না; বরং ছোট ছোট একাধিক অনিয়ম একসঙ্গে মিলে শরীরের সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করলে ব্যথার আক্রমণ শুরু হয়।

পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত ঘুম, দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকা, রক্তে শর্করা হ্রাস পাওয়া কিংবা মানসিক দুশ্চিন্তা—এসবই মাইগ্রেন বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং নিয়মিত সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে