নবপ্রকাশ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে বিঘ্ন ঘটায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক ডিজেলের বাজারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রেও, যেখানে ডিজেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) দৈনিক তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে এক গ্যালন (প্রায় ৩.৭৯ লিটার) ডিজেলের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৫০ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) যার প্রতি লিটারের দাম পড়ে প্রায় ২১০ টাকা। অথচ মাত্র এক মাস আগেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৫.৬১ ডলারে (লিটার প্রতি প্রায় ১৮১ টাকা)।
ডিজেলের এমন লাগামহীন দাম বৃদ্ধির মুখে নিজ দেশের অভ্যন্তরে বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার নীতিগত আলোচনা জোরালো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অভ্যন্তরীণ সংকট কমাতে ডিজেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজেল রপ্তানিকারক দেশ। তাদের উৎপাদিত ডিজেলের একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক বাজারে চলে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ বাজার স্বাভাবিক রাখতে তারা দেশের প্রধান প্রধান তেল শোধনাগারগুলোর সঙ্গে স্বেচ্ছামূলক রপ্তানি সীমিতকরণের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
যদিও হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি নির্ধারণী ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে তারা বিভিন্ন বিকল্প সমাধান বিবেচনা করছেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি রয়টার্স ও ইপসসের পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭ শতাংশ আমেরিকান ভোটার স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণই হবে তাঁদের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
