ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা: দায় কার?

জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা: দায় কার?

জহিরুল ইসলাম রাতুল: ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই সরাসরি শিক্ষামন্ত্রীর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ বলছেন, পরীক্ষা নেওয়া বা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত এককভাবে শিক্ষামন্ত্রী নেন না। এ প্রক্রিয়ায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা প্রশাসন এবং মাঠপর্যায়ের জেলা প্রশাসনের মতামত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সমালোচকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী না করে পুরো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যেসব জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন, তাদের দেওয়া তথ্য ও মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন কতটা বাস্তবসম্মত ছিল—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে সারাদেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এত বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা স্থগিত হলে নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ, প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক সমন্বয়সহ নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে পরিস্থিতি সম্পর্কে মতামত চাওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকদের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজ নিজ এলাকায় পরীক্ষা গ্রহণে বড় ধরনের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু পরীক্ষার দিন সকালেই অনেক এলাকার বাস্তব চিত্র ভিন্ন হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টিতে শহর ও গ্রামের বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও কেন্দ্রের ভেতরেও পানি ঢোকার খবর পাওয়া যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী বৃষ্টিতে ভিজে, হাঁটু থেকে শুরু করে কোমর এমনকি বুক সমান পানি পার হয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছেছে। অনেকে ভেজা পোশাকে কেন্দ্রে বসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মানসিক প্রস্তুতি ও মনোযোগ ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, একটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার দিনে শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে গেলেও অনেক শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিক চাপের কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ পায়নি।
বিশেষ করে নারী পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানি, নোংরা জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় থাকার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আরও সতর্ক পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনেকে মনে করছেন, শিক্ষামন্ত্রীর ওপর সব দায় চাপিয়ে দিলে প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের ভূমিকা আড়ালে থেকে যায়। কারণ মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাই কোন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা চালানোর পক্ষে মত দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
প্রশ্ন উঠেছে—সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলো কি আগে থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করেছিল? পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোর আশপাশের রাস্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করা হয়েছিল কি না? যদি এসব বিষয় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হতো, তাহলে পরীক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতো কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জাতীয় পর্যায়ের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন। মাঠপর্যায়ের তথ্য যদি সঠিকভাবে উপস্থাপন না হয়, তাহলে এর ভোগান্তি শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হয়।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভের পাশাপাশি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য আরও কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে