ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » খুলনায় সম্পর্কের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল:কোটি টাকা আত্মসাতের দাবি

খুলনায় সম্পর্কের আড়ালে ব্ল্যাকমেইল:কোটি টাকা আত্মসাতের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক,খুলনা: খুলনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে অন্তরা হক নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বর্তমান স্বামী হিসেবে পরিচিত সাইদ হাসান কানন এবং সাবেক স্বামী শ্রাবণের বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি, বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের টার্গেট করে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের অংশ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. ফরহাদ আলীর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের পর তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। তিনি দাবি করেন, ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে এসে অন্তরা হককে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, জমি ক্রয় এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় দেড় কোটি টাকার অর্থ ও সম্পদ নেওয়া হয়। পরে তিনি নিজেকে প্রতারণার শিকার বলে দাবি করেন।

ফরহাদ আলীর ভাষ্য, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখা হয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ভয় দেখিয়ে আরও অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু ফরহাদ আলী নন, আরও কয়েকজন দেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিও একই ধরনের কৌশলের শিকার হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়, ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্তদের দৃশ্যমান আয়-রোজগারের সঙ্গে তাদের সম্পদ ও জীবনযাত্রার মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাণ, জমি ক্রয় এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের অর্থের উৎস নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করতেন। পরে সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আদায় করা হতো। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার দায়িত্ব।

প্রতিবেদন তৈরির সময় অন্তরা হকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ফরহাদ আলী তার বৈধ স্বামী। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, তাদের বৈধ বিবাহের কোনো কাবিননামা নেই; কেবল একটি তালাকনামা রয়েছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, বহিরাগত ব্যক্তিদের বাড়িতে এনে দোতলায় পাঠিয়ে দিয়ে নিচতলায় সাইদ হাসান কানন ও তাদের সন্তান অবস্থান করতেন। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় অনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বিস্তারিত বক্তব্য নিতে সংবাদকর্মীরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারও করা হয়।

ভুক্তভোগী ফরহাদ আলী তার কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ফেরত এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে আদালতের আশ্রয় নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সে ক্ষেত্রেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে