নবপ্রকাশ ডেস্ক:
ক্যানসার চিকিৎসার আধুনিকায়ন ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের সিংহভাগ অর্থ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ক্যানসার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা ও তা স্থাপনের ক্ষেত্রে অতীতের সকল প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা দূর করা হবে এবং এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘জাতীয় ক্যানসার সম্মেলন ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘সবার জন্য ক্যানসার সেবা: প্রতিরোধ, নির্ভুল চিকিৎসা, উপশমমূলক পরিচর্যা ও নীতীনির্যা নির্ধারণের সমন্বয়’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
৩ মাসের মধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও রেডিওথেরাপির সম্প্রসারণ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি ক্যানসার হাসপাতালগুলোতে অতি দ্রুত অত্যাধুনিক রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেন ক্যানসার রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য আর বিদেশে পাড়ি জমাতে না হয়।
তিনি বলেন, “এসব বিশ্বমানের যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য দেশে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও টেকনোলজিস্ট রয়েছে। প্রয়োজনে নতুন প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁদের জন্য উচ্চতর বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।”
অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা ও প্রশাসনিক সতর্কবার্তা
স্বাস্থ্য খাতের অতীত বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনার তীব্র সমালোচনা করে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে সঠিক পরিকল্পনার অভাবে স্বাস্থ্য খাত বহুদূর পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকার এই খাতকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছে। এখন থেকে স্বাস্থ্য খাতে কারও কোনো ধরনের গাফিলতি বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরি থাকবে না।”
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফারহাদ হালিম ডালিম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
