ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » করোনা প্রণোদনার নামে অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে দুদকের ৩৩ মামলা

করোনা প্রণোদনার নামে অর্থ আত্মসাৎ: সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের বিরুদ্ধে দুদকের ৩৩ মামলা

বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক নবপ্রকাশ:

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস মহামারির থাবায় যখন নিম্নআয়ের মানুষ জীবন-জীবিকা নিয়ে দিশেহারা, তখন সেই সংকটকে হাতিয়ার করে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অসহায় রিকশাধারী, কৃষক, নাপিত ও টেইলারদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে সংগ্রহ করা জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহার করে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সে সময় দুস্থদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকে (ইউসিবিএল) ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। এরপর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও ট্রেড লাইসেন্স দেখিয়ে ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ ও ‘টার্ম লোন’-এর নামে বের করে নেওয়া হয় ১৩৪ কোটি টাকারও বেশি। এসব জালিয়াতির ঘটনায় দুদক ইতোমধ্যে ১৯টি মামলা দায়ের করেছে।

যেভাবে চলত অর্থ সরানোর প্রক্রিয়া দুদকের নথি অনুযায়ী, ভুয়া ব্যাংক হিসাব খোলার কয়েকদিনের মধ্যেই ১৫ থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণের আবেদন করা হতো। প্রধান কার্যালয়ের ক্রেডিট বিভাগ ও পরিচালনা পর্ষদ কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই তা অনুমোদন দিত। অনুমোদনের পর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে পে-অর্ডার ইস্যু করে কয়েক দফা হিসাব বদল করা হতো। এরপর চট্টগ্রামের জুবিলী রোড ও আগ্রাবাদ শাখা থেকে নগদে টাকা তুলে তা হুন্ডির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হতো এবং পরবর্তীতে টিটির (Telegraphic Transfer) মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করে কেনা হতো বিলাসবহুল সম্পত্তি।

মামলার পর্বত ও ঘুষ গ্রহণের চাঞ্চল্যকর তথ্য দুদকের অনুসন্ধানে জাবেদ ও তার স্ত্রী—ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমিলা জামানের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ৩৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জালিয়াতি ছাড়াও থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন, এইচএম শিপ ব্রেকিং ও সাইফ পাওয়ারটেকসহ পাঁচটি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা করেছে সংস্থাটি। এছাড়া পারিবারিক প্রতিষ্ঠান ‘আরামিট সিমেন্ট’-এর নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দেশে-বিদেশে ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ জব্দ দুদকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুরসহ ৯টি দেশে জাবেদ দম্পতির প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধের আওতায় এসেছে।

  • যুক্তরাজ্য: দেশটিতে জাবেদের ৫ ১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র: গত ৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই জাবেদ-রুকমিলা দম্পতির সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত নথি দুদকে পাঠিয়েছে।

  • সিঙ্গাপুর: সেন্ট থমাস ওয়াক এলাকায় বিলাসবহুল বাড়িসহ একাধিক বিনিয়োগ হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে।

  • দেশীয় সম্পদ: ঢাকায় ২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামে ১০টি ফ্ল্যাট, ২৭টি জমি ও বাণিজ্যিক স্পেস জব্দ করা হয়েছে। গুলশানের ফ্ল্যাট দুটি থেকে পোশাক, গহনা ও গাড়ির চাবিসহ ২৬০ ধরণের আলামত জব্দ করেছে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক ও মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাবেদের দেশে-বিদেশে থাকা অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও ক্রোক করতে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং বিদেশের সম্পদ ফেরাতে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট’ (MLAR) সহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকায় জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপের সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টিই বন্ধ পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় আদালত তিন সদস্যের ‘রিসিভার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব মঞ্জুর করেছেন।

তবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাদের পরিবারের বিদেশে দীর্ঘদিনের বৈধ ব্যবসা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে নেওয়া এসব আইনি পদক্ষেপ মূলত ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে