ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে ৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ: সারাহ কুক

এলডিসি উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যে ৯২% পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ: সারাহ কুক

নবপ্রকাশ ডেস্ক

বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের বাজারে ৯৯.৮ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরেও পরবর্তী তিন বছর এই সুবিধা পুরোপুরি বহাল থাকবে এবং এরপরও ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় থাকবে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতও অন্তর্ভুক্ত।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এসব কথা বলেন।

সারাহ কুক বলেন, “যুক্তরাজ্যের কাছে বাংলাদেশ একটি কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদার। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত মাত্রায় উন্নীত হয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে প্রতিফলিত করে।” দুই দেশের মধ্যকার শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্কের উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী দেশ। ফাইনান্স, ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর অবদান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ যখন এলডিসি উত্তরণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করতে যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’ (ডিসিটিএস) বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন হাইকমিশনার। তিনি এই স্কিমকে বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধা হিসেবে অভিহিত করেন।

বক্তব্যে বাণিজ্য ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ভূ-রাজনীতির প্রসঙ্গ উঠে আসে। হাইকমিশনার বলেন, “একটি অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রশংসনীয়।” এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রথাগত গণ্ডি ছাড়িয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সারাহ কুক সতর্ক করে বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও চরম আবহাওয়ার যে বাস্তব মুখোমুখি বাংলাদেশ হচ্ছে, তা কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়। এটি ইতিমধ্যেই মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে এবং এর জের কয়েক প্রজন্ম ধরে বজায় থাকবে।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে সারাহ কুক বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা এবং রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান। যুক্তরাজ্য এই লক্ষ্যে অবিচল থেকে কাজ করে যাবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে