ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » একাত্তর ও শিল্পীদের মঞ্চযাত্রা: যশোর রোড

একাত্তর ও শিল্পীদের মঞ্চযাত্রা: যশোর রোড

বিনোদন ডেস্ক:

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ কেবল রণাঙ্গনের সশস্ত্র লড়াইয়ের ইতিহাস নয়; এটি কোটি মানুষের বাস্তুচ্যুতি, অসীম বেদনা ও অস্তিত্ব রক্ষার এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের সেই গভীর ও বেদনাবিধুর মানবিক দিক–শরণার্থীদের দুর্বিষহ জীবনের গল্পকে নাট্যমঞ্চে নতুন করে ফুটিয়ে তুলেছে ‘যশোর রোড’ গীতালেখ্য। গত ২ অক্টোবর রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তনে ২৭ ধানমন্ডি–গাই বাংলার গান পর্ষদ আয়োজিত এই বিশেষ প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়।

মনোজ্ঞ ও আবেগঘন এই গীতালেখ্যটি মঞ্চায়ন করেছে নরসিংদীর থিয়েটার দল ‘বাঁধনহারা’। মূলত প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত সংস্কৃতিকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটির পরিবেশনায় ছিল বিশেষ সামাজিক তাৎপর্য। নানাবিধ প্রতিকূলতা ও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তাদের এই ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক প্রয়াস পুরো আয়োজনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

এই নাট্য পরিবেশনার সবচেয়ে চমকপ্রদ ও আলোকিত দিক ছিল এর শিল্পীবাহিনী। শিশু থেকে প্রবীণ—মোট প্রায় ৬০ জন শিল্পী এই গীতালেখ্যে অংশ নেন। শিল্পীদের দলে সাড়ে তিন বছরের শিশু থেকে শুরু করে প্রায় ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ ব্যক্তি, ১৬ জন শিশুশিল্পী এবং একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। বয়সের বিশাল ব্যবধান ও শারীরিক বৈচিত্র্যময় এই শিল্পীদের একই ছন্দে সুসংহতভাবে মঞ্চে উপস্থাপন করা নির্দেশনার দিক থেকে এক বিরাট অর্জন।

মঞ্চে নিষ্পাপ শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অথচ বিষাদময় উপস্থিতি শরণার্থীদের হারিয়ে যাওয়া শৈশবের নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে দর্শকমহলে চোখের জল এনে দেয়। অন্যদিকে প্রবীণ শিল্পীদের গম্ভীর কণ্ঠ ও উপস্থিতিতে ইতিহাস যেন সরাসরি জীবন্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিল্পীর সাবলীল অভিনয় ও অন্তর্ভুক্তি নিছক কোনো সুযোগ দেওয়া ছিল না, বরং তাঁর তেজস্বী শিল্পীসত্তা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে কুড়িয়েছে বিশেষ মনোযোগ ও অন্তরের শ্রদ্ধা।

নাটক চলাকালীন মিলনায়তন জুড়ে নেমে আসা সুগভীর স্তব্ধতাই বলে দেয় একাত্তরের শরণার্থী জীবনের নির্মম দৃশ্য ও সুরের আবেগ কীভাবে দর্শককে স্পর্শ করেছে। উপস্থাপনার শেষে হল ভর্তি দর্শক দীর্ঘ করতালির মাধ্যমে পুরো দলকে অভিবাদন জানান। মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত প্রচলিত আলোচনার বাইরে গিয়ে শরণার্থীদের দীর্ঘ পথচলা ও মানবিক করুণ গাথাকে নতুন আলোয় আবিষ্কার করার সুযোগ পেয়েছেন উপস্থিত দর্শকেরা।

পুরো আয়োজন ও দলটিকে একই সুতোয় বেঁধে সাফল্য এনে দেওয়ার পেছনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন নাট্য নির্দেশক কামরুজ্জামান তাপু। শিশু, প্রবীণ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এত বিশাল একটি টিমকে পরিচালনা করে প্রতিটি শিল্পীর নিজস্ব বৈচিত্র্যকেই তিনি নাটকের শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। প্রান্তিক ও বঞ্চিত শিল্পীদের কণ্ঠে একাত্তরের বাস্তুচ্যুত বঞ্চিত মানুষের গল্প বলার এই গীতালেখ্য ছায়ানটের মঞ্চ পেরিয়ে উপস্থিত শত শত দর্শকের অনুভূতির গভীরে চিরস্থায়ী রেখাপাত করেছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে