ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » এইচএসসির ফল প্রকাশেও বিক্রি নেই মিষ্টির দোকানে

এইচএসসির ফল প্রকাশেও বিক্রি নেই মিষ্টির দোকানে

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ মানেই একসময় মিষ্টির দোকানগুলোতে ছিল চোখে পড়ার মতো বাড়তি ব্যস্ততা। ভালো ফলাফলে শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাতে মিষ্টি কেনার ধুম পড়ত চারদিকে, আর ক্রে সামলাতে হিমশিম খেতে হতো দোকানিদের। তবে সময়ের পরিক্রমায় বদলে গেছে সেই পরিচিত দৃশ্যপট। এবারও ফলাফলের দিন মিষ্টির দোকানগুলোতে ছিল না কোনো অতিরিক্ত ভিড় কিংবা বিক্রির ধুম; স্বাভাবিক দিনের মতোই থমকে ছিল কেনাবেচা।

প্রতিবছর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিউ সিনেমা হল রোড ও মহাদেবপট্টি এলাকার মিষ্টির দোকানগুলোতে থাকে বিশেষ প্রস্তুতি। ঐতিহ্যবাহী মাতৃ ভান্ডারসহ বড় দোকানগুলোতে মিষ্টি, ছানামুখী, বরফি ও রসমালাই কিনতে ভিড় জমাতেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। স্বাভাবিক দিনের তুলনায় বিক্রি বেড়ে যেত দুই থেকে তিন গুণ। কিন্তু শনিবার (৩১ অক্টোবর) শহরের ওই দুই এলাকার মিষ্টির দোকানগুলোতে নিয়মিত ক্রেতা থাকলেও ফল প্রকাশ ঘিরে কোনো বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা চোখে পড়েনি।

ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান মাতৃ ভান্ডারের মালিক সজিব চন্দ্র পাল হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতি বছর এই সময়ে দোকানে প্রচুর ভিড় থাকে। ক্রেতা সামলানোই কঠিন হয়ে যেত। কিন্তু এবার ফল প্রকাশের পর তেমন ক্রেতা চোখে পড়েনি।’

একই হাল মধুরাজ মিষ্টান্ন ভান্ডারেরও। দোকানটির মালিক অসিত মোদক জানান, ফল প্রকাশ উপলক্ষে প্রতিবছর তাদের অতিরিক্ত প্রস্তুতি থাকে। এবারও প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা আসেননি, বিক্রি হয়েছে স্বাভাবিক দিনের মতোই।

এইচএসসি ঘিরে এই ঝিমিয়ে পড়া ব্যবস্থার কথা স্বীকার করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম। তিনি জানান, সমিতির সদস্য মিষ্টির দোকানগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে—অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি অনেক কম। ফল প্রকাশ ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার প্রভাবই পড়েছে এই বাজারে।

একই চিত্র ফুটে উঠেছে রাজধানী ঢাকাতেও। শান্তিনগর, বেইলি রোড, পল্টনের মতো ব্যস্ত এলাকার বিক্রমপুর, রস, ভাগ্যকূল, মধুমিতা, বস, মীনা, সালাম ডেইরি ও মুসলিম সুইটসের মতো নামীদামি দোকানগুলোতে দেখা গেছে স্বাভাবিক দিনের দৃশ্য। মিষ্টি কেনার সেই চিরাচরিত ধুম না থাকায় বিকেলের দিকে অনেক দোকানের কর্মচারীদের গল্প করে সময় কাটাতে দেখা যায়।

ভাগ্যকূল সুইটসের শান্তিনগর শাখার ব্যবস্থাপক সুজন ঘোষ বলেন, ‘আগে পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন দোকানে দারুণ বিক্রি হতো, বাড়তি চাপ সামলাতে লোকও বেশি রাখতে হতো। এখন আর সেই দিন নেই।’ অন্যদিকে, মুসলিম সুইটসের বিক্রয়কর্মী জাকির হোসেন জানান, গত দুই বছর ধরেই এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশের দিন বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

তবে এই পুরোনো ঐতিহ্য একেবারে মুছে যায়নি। মেয়ে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ায় মুসলিম সুইটসে মিষ্টি কিনতে আসা সালেহা নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘আগে মিষ্টি খাওয়ানোর প্রচলন বেশি ছিল। তবে নানা শারীরিক জটিলতা ও রোগের কারণে আজকাল অনেকেই মিষ্টির বদলে ফলমূল বা অন্য খাবার দেওয়া পছন্দ করেন। তবুও স্বজনদের মুখ মিষ্টি করাতে কিছুটা কিনেছি।’

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, স্বাস্থ্য সচেতনতা আর ফল প্রকাশ ঘিরে পুরোনো উদ্দীপনায় ভাটা পড়ার কারণেই মিষ্টির দোকানগুলোতে এমন মন্দাভাব তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে