ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের জোয়ার বইয়ে দিল ইন্টার মিলান। তবে তাদের ঝড় সামলে নিয়ে উল্টো জোড়া গোল দিয়ে ফেলল রিয়াল মাদ্রিদ। বিরতির পর একটি শোধ দিতে পারল ইতালিয়ান ক্লাব। লিড ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত কোনোমতে জয় পেল স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইন্টারের কঠিন পরীক্ষায়ই পড়েছে রিয়াল। তবে ঘরের মাঠে সব চ্যালেঞ্জ সামলে ২-১ গোলের জয় নিয়েই ম্যাচ শেষ করেছে হোসে মরিনিয়োর শিষ্যরা।
প্রথমার্ধেই রিয়ালের হয়ে জাল কাঁপান কিলিয়ান এমবাপে ও ফেদে ভালভার্দে। দুই অর্ধেই আক্রমণের ঝড় তুললেও কার্লোস অগাস্তো ছাড়া ইন্টারের আর কেউ লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি।
তবে ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে ইতালিয়ান সিরি আ’র চ্যাম্পিয়নরা। প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে গোলের জন্য ২৩টি শট করে তারা। এর ৮টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ১৬ শট করে ৮টি জাল বরাবর রাখতে পারে রিয়াল।
তবু স্কোরলাইন খুব বড় না হওয়ার মূল কৃতিত্ব দুই দলের গোলকিপারের। একের পর এক সেভ দিয়ে রিয়ালের জয় নিশ্চিত করেন থিবো কর্তোয়া। কম যাননি জোসেপ মার্তিনেজও। তার দৃঢ়তায় স্বাগতিকদের গোলসংখ্যা বেশি বাড়েনি।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের দারুণ সুযোগ তৈরি করে ইন্টার। ডি-বক্সের ভেতরে খুব কাছ থেকে ভলি করেন মার্কাস থুরাম। তবে দারুণ দক্ষতায় সেটি ফিরিয়ে দেন কর্তোয়া। কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে থেকে লাউতারো মার্তিনেজের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান বেলজিয়ান গোলরক্ষক।
উল্টো ১৪ মিনিটে খেলার ধারার বিপরীতেই লিড নিয়ে নেয় রিয়াল। ডি-বক্সের কাছাকাছি নিজেদের ভুলে বল হারায় ইন্টার। সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি এমবাপে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ৭১তম গোল। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তিনি এখন যৌথভাবে পাঁচ নম্বরে।
শোধ দিতে মরিয়া হয়ে আবার কর্তোয়ার পরীক্ষা নিতে থাকে অতিথিরা। পরম দৃঢ়তায় একের পর এক আক্রমণ ফেরাতে থাকেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
ম্যাচের ২৩ মিনিটে গিয়ে আবারও ইন্টারের মুহূর্তের ভুল, তাতেই ব্যবধান বাড়ে রিয়ালের। সতীর্থের ব্যাক পাস পেয়ে বল নিজের কাছেই রেখেছিলেন গোলকিপার। তবে দ্রুত ছুটে এসে কিপারের পায়ে থাকা বলেই টোকা দিয়ে স্কোরলাইন ২-০ করে দেন ভালভার্দে।
মিনিট চারেক পর এমবাপেকে দারুণ ট্যাকল করে দলকে বাঁচান ইয়ান বিসেক। আর বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে জোড়া সেভ করে স্কোরলাইন বড় হতে দেননি মার্তিনেজ।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আবারও গোলকিপারদের দৃঢ়তার প্রদর্শনী। বিরতির পরপরই এমবাপের দারুণ শট ঠেকিয়ে দেন ইন্টারের কিপার। ৫৬ মিনিটের মাথায় গিয়ে জোড়া সেভ করেন কর্তোয়া। কিছুক্ষণ পর আরেকটি অবিশ্বাস্য সেভ করে জাল অক্ষত রাখেন তিনি।
দুই দলের আক্রমণের জোয়ারে এগোতে থাকে ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ৭৭ মিনিটে গিয়ে লাউতারো মার্তিনেজ বাই লাইন থেকে কাট-ব্যাক করলে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে পাঠান অগাস্তো।
ইন্টারের গোলের সঙ্গে ফিরে আসছিল নাপোলির বিপক্ষে তাদের ৩-২ গোলের প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি। তবে এবার সেটি হতে দেয়নি রিয়াল। ম্যাচের বাকি সময়ে ইন্টারের একাধিক জোরাল আক্রমণ ঠেকিয়ে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক ক্লাবটি।
