শিক্ষায় বৈষম্য দূর করতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান ২৭টি ধারাকে অভিন্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ২৭টিরও বেশি বিচ্ছিন্ন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা বা শিক্ষাধারা বিদ্যমান । শিক্ষাক্ষেত্রে এই বৈষম্য দূর করতে সরকার ও নীতিনির্ধারকেরা সকল ধারার শিক্ষার জন্য একটি ‘অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড’ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন । মাদরাসা, বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো ভিন্ন ভিন্ন ধারার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। এজন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা দরকার, যাতে সব শিক্ষার্থীই সমান সুযোগ ও সমমানের যোগ্যতা অর্জনের অধিকার পায়।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন আয়োজিত ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মধ্যেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি সুস্পষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ভিশন নির্ধারণ করেছে। এ ভিশনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও শিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা।
শিক্ষাব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নের জন্য চারটি মূল স্তম্ভ ও একটি নতুন উপাদানের কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, স্ট্রিমসমূহের অ্যালাইনমেন্ট (সমন্বয়), প্রযুক্তির সংযোজনের (এআই ও ফিউচার জবস) ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার -টেকসই উন্নয়নের জন্য চারটি মূল স্তম্ভে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে সাধারণ শিক্ষা (বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, ইংরেজি ভার্সন),মাদ্রাসা শিক্ষা (আলিয়া, কওমি), কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (এসএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (ভোকেশনাল), পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন ট্রেড কোর্স), অন্যান্য বিশেষায়িত ধারা (কিন্ডারগার্টেন, ক্যাডেট কলেজ, মিশনারি স্কুল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিদ্যালয়, এবং এনজিও পরিচালিত উপানুষ্ঠানিক স্কুল) বিদ্যমান।
বিচ্ছিন্ন শিক্ষাধারাগুলোকে একক বা অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ডে নিয়ে আসলে শ্রেণি বৈষম্য নিরসন, জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
