ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর অগ্রিম আয়কর ও অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবি

বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর অগ্রিম আয়কর ও অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর (AIT) এবং অতিরিক্ত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘লাইসেন্সধারী বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মালিক সমিতি বাংলাদেশ’। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর নতুন করে উচ্চ হারে কর আরোপ করলে বৈধ অস্ত্রধারীরা চরম আর্থিক চাপে পড়বেন, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর ঢাকা প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কয়েক শতাধিক বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারী ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরিফ উল ইসলাম (সোহেল)। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের ওপর এ ধরনের অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। তিনি সরকারের প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক অধিকার রক্ষায় অবিলম্বে এই অযৌক্তিক কর ও বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠক মো. কামরুদ্দিন রাশেদ। তিনি সরকারের প্রস্তাবিত কর ও ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে দেশের জন্য ক্ষতিকর আখ্যা দিয়ে বলেন, বৈধ অস্ত্রধারীদের ওপর এমন আর্থিক চাপ সৃষ্টি করলে তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষার সক্ষমতাকে দুর্বল করবে। পরে তিনি সংগঠনের মুখপাত্র ও সংগঠক মাহবুব এ খোদা জুয়েলকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করে মাহবুব এ খোদা জুয়েল বলেন, বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল কোনো দেশেই আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর অগ্রিম আয়কর (AIT) আরোপের নজির নেই। তিনি বিভিন্ন দেশের লাইসেন্স ফি ও নবায়ন ফি-এর তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে বলেন, এশিয়ার অধিকাংশ দেশে আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকারও নিচে। সেখানে বাংলাদেশে বর্তমানে পিস্তল ও রিভলভারের জন্য ২০ হাজার টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য ১০ হাজার টাকা নবায়ন ফি দিতে হয়, যা ইতোমধ্যেই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে পিস্তল ও রিভলভারের জন্য বছরে ১ লাখ টাকা এবং শটগান ও রাইফেলের জন্য ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব সাধারণ লাইসেন্সধারীদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে। এ ধরনের কর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও দাবি করেন তিনি।

জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি তুলে ধরে মাহবুব এ খোদা জুয়েল বলেন, গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে বৈধ অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি অপরাধীদের জন্য একটি নিরুৎসাহক হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “করের চাপে যদি মানুষ বৈধ অস্ত্র জমা দিতে বাধ্য হয়, তাহলে অপরাধী ও সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের শুটিং ক্রীড়ার বিকাশেও এ সিদ্ধান্ত বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত করের কারণে অনেক সম্ভাবনাময় শুটার ও ক্রীড়াবিদ আগ্নেয়াস্ত্রভিত্তিক খেলাধুলা থেকে সরে যেতে পারেন, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের শুটিং অঙ্গনের জন্য ক্ষতিকর হবে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো— বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারীদের ওপর আরোপিত প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর এবং অতিরিক্ত ফি অবিলম্বে বাতিল করা, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যোগ্য নাগরিকদের জন্য লাইসেন্স প্রাপ্তি ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ ও শিথিল করা এবং লাইসেন্সধারীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি আধুনিক, বাস্তবসম্মত ও নিরাপত্তা-বান্ধব ফি কাঠামো প্রণয়ন করা।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা এবং শুটিং ক্রীড়ার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর ও অতিরিক্ত ফি আরোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দাবি আদায় না হলে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্সধারীরা বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করতে পারেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে