স্পোর্টস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে মাঠ কাঁপাতে আসছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ-এর এই মেগা আসর শুরু হতে বাকি আর মাত্র ২৩ দিন। দীর্ঘ ৩২ বছর পর উত্তর আমেরিকায় ফিরছে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের এই রোমাঞ্চকে আরও বাড়িয়ে দিতে প্রতিদিন বিশ্বকাপের একেকটি সোনালী ইতিহাস ও অবিশ্বাস্য মুহূর্তকে ফিরিয়ে আনছে ক্রীড়া বিশ্ব। আজ সেই কাউন্টডাউনের ২৩তম দিনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপ এবং এর প্রথম চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।
ইতিহাসের প্রথম ডার্বি ফাইনাল
বিশ্বকাপের ২২টি আসরে এ পর্যন্ত মাত্র ৮টি ভিন্ন দেশ সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার গৌরব অর্জন করেছে। তবে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম টুর্নামেন্টটি জিতে অমর হয়ে আছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের রাজধানী মন্তেভিডিওর ‘এস্তাদিও সেন্সেনারিও’ স্টেডিয়ামে বসেছিল প্রথম বিশ্বকাপের আসর। ইউরোপ এবং আমেরিকার মাত্র ১৩টি দেশ কোনো বাছাইপর্ব ছাড়াই সম্পূর্ণ আমন্ত্রণমূলক এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল।
সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষদের ৬-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। টানটান উত্তেজনার ফাইনালে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিক উরুগুয়ে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইতিহাস রচনা করে তারা।
গ্রীক দেবীর ট্রফি থেকে আজকের ‘গোল্ডেন গ্লোব’
বিশ্বকাপের স্বপ্নদ্রষ্টা ও তত্কালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট জুল রিমে (Jules Rimet) প্রথম চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন একটি বিশেষ ট্রফি। গ্রীক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’ (Nike)-এর আদলে তৈরি করা স্টের্লিং সিলভার ও সোনার প্রলেপ দেওয়া সেই ট্রফিটির নাম পরবর্তীতে রাখা হয়েছিল ‘জুল রিমে ট্রফি’। ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এই ট্রফিটিই বিজয়ীদের দেওয়া হতো। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলে নিয়ম অনুযায়ী ট্রফিটি চিরতরে তাদের দিয়ে দেওয়া হয় (যদিও ১৯৮৩ সালে রিও ডি জেনিরো থেকে ট্রফিটি চুরি হয়ে যায় এবং ধারণা করা হয় চোরেরা সেটি গলিয়ে ফেলেছে)। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে ফিফা বর্তমানের পরিচিত দুই মানবমূর্তি সংবলিত ‘সোনার গ্লোব’ আকৃতির ট্রফিটি ব্যবহার শুরু করে।

উরুগুয়ের বর্তমান অধ্যায় ও ২০২৬-এর চ্যালেঞ্জ
প্রথম আসরের পর ১৯৫০ সালে ব্রাজিলের মারাকানায় দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল উরুগুয়ে। তবে সেই ঐতিহাসিক ‘মারাকানাজো’র পর গত ৭৫ বছরে ‘লা সেলেস্তে’রা আর কখনো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপসহ চারবার তারা চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে, তবে শেষ তিনটি আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের গণ্ডি পার হতে পারেনি।
এবারের গ্রীষ্মে মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে উরুগুয়ে দল উত্তর আমেরিকার মাটিতে তাদের সেই দীর্ঘ খরা কাটাতে মরিয়া। স্পেনের সাথে গ্রুপ ‘এইচ’-এ থাকা উরুগুয়ে কি পারবে শতবর্ষের কাছাকাছি এসে তাদের তৃতীয় ট্রফিটি ঘরে তুলতে?
প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য:
১. সব ম্যাচ এক শহরে: ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৩০ সালের আসরটিই একমাত্র টুর্নামেন্ট, যার প্রতিটি ম্যাচ একটিমাত্র শহরে (মন্তেভিডিও) অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
২. প্রথম গোলের রেকর্ড: ফ্রান্সের লুসিয়েন লরেন্ট মেক্সিকোর বিরুদ্ধে ম্যাচের ১৯ মিনিটে বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেছিলেন।
৩. ২০২৬-এর বিশালতা: ১৯৩০ সালের ১৩ দলের ছোট টুর্নামেন্টটি আজ ২০২৬ সালে এসে ৪৮ দলের এক বিশাল বৈশ্বিক মহাযজ্ঞে রূপ নিয়েছে, যা প্রমাণ করে ফুটবল আজ কতটা জনপ্রিয় এবং এর ব্যাপ্তি কতটা অলৌকিক।
