ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে হবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই, নয়তো বাসা বাতিল

সরকারি বাসা থেকে ভাড়াটে সরাতে হবে ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই, নয়তো বাসা বাতিল

নবপ্রকাশ ডেস্কঃ
সরকারি আবাসন বরাদ্দ নিয়ে নিজেরা না থেকে অন্যকে ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন, এমন সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে সরকার। আগামীকাল ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট বা ভাড়াটেদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সরকারি চাকরিজীবীকে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাঁকেই সেখানে বসবাস করার নির্দেশ দিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।
৩১ অক্টোবরের পরও কোনো সরকারি ফ্ল্যাটে সাবলেট কিংবা ভাড়াটে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সরকারি চাকরিজীবীর বাসা বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গতকাল বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এতে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন সব সরকারি বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এ নির্দেশনা জানানো হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোনো কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাঁদের অনুকূলে বরাদ্দ করা বাসায় একটি কক্ষ, দুটি কক্ষ কিংবা পুরো ফ্ল্যাট অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো সরকারি চাকরিজীবী নিজের নামে বরাদ্দ পাওয়া বাসার সম্পূর্ণ অংশ কিংবা আংশিক (এক বা একাধিক কক্ষ) কোনোভাবেই সাবলেট বা ভাড়া দিতে পারবেন না। যাঁরা ইতিমধ্যে এভাবে ফ্ল্যাট ভাড়া কিংবা সাবলেট দিয়েছেন, তাঁদের আগামীকাল ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটে বা সাবলেটগ্রহীতাদের সরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই বাসায় অবস্থান ও বসবাস করতে হবে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো বাসায় সাবলেট বা ভাড়াটে পাওয়া গেলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। এ ছাড়া বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালার বিধি ১৪(৩) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হবে।
আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর আজিমপুর, মতিঝিল, মিরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের ফ্ল্যাট রয়েছে। যাঁদের নামে সেখানে বাসা বরাদ্দ হয়েছে, তাঁরা সেখানে না থেকে অন্যকে ভাড়া দিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবস্থা চলে আসছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীতে বিভিন্ন শ্রেণির মোট ১৯ হাজার ৯১টি সরকারি বাসা রয়েছে। এর মধ্যে সচিবদের জন্য রয়েছে ১১৪টি সচিব নিবাস। এ ছাড়া ৭৯টি বাংলো রয়েছে। গ্রেড-৩ বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের জন্য ৫৫৮টি সুপিরিয়র শ্রেণির বাসা, গ্রেড-৫ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯৯টি, গ্রেড-৬ বা তদূর্ধ্বদের জন্য ১ হাজার ৮৯০টি, গ্রেড-৭ থেকে ৯-এর জন্য ২ হাজার ৬৩২টি এবং গ্রেড-১০ থেকে ১২-এর জন্য ৪ হাজার ৮৯০টি বাসা রয়েছে। শুধু গ্রেড ৯ কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত ৭৭৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে।
১২ ও ১৩ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৮৪টি ফ্ল্যাট। ১৪ ও ১৫ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ১ হাজার ৫৭৪টি ফ্ল্যাট। ১৬ ও ১৭ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ২ হাজার ৫১৩টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ১৮ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য রয়েছে ২ হাজার ৬১ ফ্ল্যাট।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে