ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সিউলের চরম বার্তা: রেহাই পাবে না উত্তর কোরিয়া

সিউলের চরম বার্তা: রেহাই পাবে না উত্তর কোরিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সীমান্ত এলাকায় কৌশলগত হামলার অস্ত্র মোতায়েন এবং দক্ষিণ কোরিয়ামুখী লাউডস্পিকারে পুনরায় উসকানিমূলক প্রচার শুরু করার নজিরবিহীন হুমকি দেওয়ায় উত্তর কোরিয়াকে চরম প্রতিশোধ ও শাস্তির কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। সিউলের বৈধ নিরাপত্তা পদক্ষেপকে অজুহাত বানিয়ে পিয়ংইয়ং নতুন কোনো সামরিক উসকানি দিলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে এই চরম প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

‘উসকানি দিলে কঠোর শাস্তি’: সিউল

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সামরিক সীমারেখা (MDL) এবং অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (DMZ) দক্ষিণ কোরীয় বাহিনীর লাউডস্পিকারে প্রচার ও সতর্কতামূলক গুলি চালানোর মূল উদ্দেশ্য ছিল উত্তর কোরীয় সেনাদলের অনুপ্রবেশ ঠেকানো।

বিবৃতিতে বলা হয়, “সীমান্ত অতিক্রমকারী উত্তর কোরিয়ার সশস্ত্র সেনাদের পিছু হটতেই এসব আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া যদি আমাদের এই বৈধ পদক্ষেপকে অজুহাত বানিয়ে পুনরায় কোনো সামরিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তবে সিউল তাকে কঠোরভাবে শাস্তি দেবে।” একই সঙ্গে ভিত্তিহীন অভিযোগ বন্ধ করা এবং সামরিক সীমারেখা লঙ্ঘন না করে বিরোধ নিরসনে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানানো হয়।

সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক প্রস্তুতি জোরদার

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জিন ইয়ং-সেউং সীমান্তবর্তী সেনা কমান্ড পরিদর্শন করে সামরিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন। অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (DMZ) বাহিনীর তৎপরতা বহুগুণ বাড়াতে নির্দেশ দিয়ে জিন ইয়ং-সেউং বলেন, “উত্তর কোরিয়া নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে সিউলের বৈধ প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপকে উসকানি হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সিউলের অভিযোগ, উত্তর কোরিয়া সীমান্ত এলাকায় অন্যায়ভাবে স্থলমাইন পুঁতে রাখায় গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকজন জওয়ান গুরুতর আহত হন, যা স্পষ্টতই ১৯৫৩ সালের ঐতিহাসিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির নগ্ন লঙ্ঘন।

কিম ইয়ো জংয়ের পাল্টা অভিযোগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার সর্বময় নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং পাল্টাধাওয়া দিয়ে দাবি করেছেন, সীমান্ত এলাকায় উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলার সময় দক্ষিণ কোরীয় সেনারা অন্যায়ভাবে গুলি চালিয়ে তাদের সেনাদের জীবন বিপন্ন করেছে।

চলতি বছর উত্তর কোরিয়া সীমান্তে প্রায় সাত হাজার সামরিক কর্মী মোতায়েন করেছে এবং তাদের সেনারা অন্তত ৫০ বার সীমান্ত অতিক্রম করেছে বলে সিউলের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ক্ষমতা গ্রহণের পর পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে যে কূটনৈতিক সম্পর্কের দুয়ার খোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, উত্তরের লাউডস্পিকার ও মাইনের হুমকির ফলে তা বড় ধাক্কা খেল।

সংঘর্ষের মারাত্মক ঝুঁকি দেখছেন বিশ্লেষকরা

‘কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশন’-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন এবং জাতিসংঘ কমান্ডের সাবেক কর্মকর্তা মাইকেল বোস্যাক সতর্ক করে জানিয়েছেন, সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থান এবং সতর্কতামূলক গুলিকে ভুল করে সরাসরি হামলা মনে করা হলে যেকোনো মুহূর্তে কোরীয় উপদ্বীপে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের সূচনা হতে পারে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে