বিনোদন ডেস্ক:
বলিউডের জনপ্রিয় অ্যাকশন অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন দুষ্কৃতকারীকে রাজস্থানের কোটা রেলওয়ে স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুম্বাই পুলিশের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থান অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (AGTF) ও কোটা সিটি পুলিশের যৌথ অভিযানে পুনে-জয়পুর এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে তাদের আটক করা হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অভিনেতা টাইগার শ্রফ অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালকসহ দু’জন আহত হন। কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করা হলেও পুলিশ বিষয়টি এখনো যাচাই করছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয় ও গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, আটককৃতদের মধ্যে দুজন হরিয়ানার এবং একজন বিহারের বাসিন্দা। তারা সবাই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য বলে জোরালো সন্দেহ করা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার তিন ব্যক্তি হলেন— হরিয়ানার সোনিপতের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর, সোনিপতের ১৮ বছর বয়সী রেহান এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের ২২ বছর বয়সী ঋত্বিক কুমার ওরফে রোশন। এর মধ্যে রোশন বর্তমানে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি পশ্চিমে বসবাস করতেন এবং পেশায় একজন র্যাপিডো রাইডার হিসেবে কাজ করতেন। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এদের দুজন পেশাদার ভাড়াটে খুনি এবং তৃতীয়জন অপরাধ সংঘটনের পর তাদের পালাতে সহায়তা করেছিলেন।
যেভাবে ঘটেছিল হামলা ও পলায়ন তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুচারুভাবে অভিনেতার সাপ্তাহিক রুটিন পর্যবেক্ষণ করেছিল। টাইগার শ্রফ প্রতি রবিবার নিয়ম করে জুহুর একটি ফুটবল মাঠে যান—এই তথ্য নিশ্চিত হয়ে তারা আগে থেকেই ওত পেতে ছিল। মাঠে খেলা শেষে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
গুলি চালানোর পর পূর্বপরিকল্পিত রুট ধরে এসভি রোড হয়ে ভিলে পার্লে ও আন্ধেরির দিকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে আন্ধেরি পশ্চিম রেলওয়ে স্টেশনের কাছে মোটরসাইকেল ফেলে রেখে তারা বোরিভালিগামী ট্রেনে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে তারা মহারাষ্ট্রের সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী গুজরাটেও প্রবেশ করেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
একনাথ শিন্ডের টাইগার শ্রফের বাসভবন পরিদর্শন ও কঠোর হুঁশিয়ারি
ঘটনার পর গভীর রাতে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় সরাসরি টাইগার শ্রফের বাসভবনে যান। তিনি ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেন, তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন এবং উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার পূর্ণ আশ্বস্ত করেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একনাথ শিন্ডে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মুম্বাইয়ের মাটিতে কোনো ধরনের গ্যাং-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা বরদাস্ত করা হবে না। নব্বইয়ের দশকের মতো অপরাধ চক্রগুলোর বিরুদ্ধে যেভাবে কঠোর হস্তে দমন অভিযান চালানো হয়েছিল, এবারও এই অপরাধী চক্রগুলোর শিকড় এভাবেই উপড়ে ফেলা হবে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
