নবপ্রকাশ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম বন্দর ভবন ও কাস্টম হাউসের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ঠিক সামনে অবস্থিত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর সড়ক। দৈনিক হাজার হাজার ব্যবসায়ী, কর্মজীবী মানুষ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের চলাচলের প্রধান এই পথটির সল্টগোলা থেকে ইপিজেড পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার অংশ বর্তমানে পরিণত হয়েছে তীব্র ভোগান্তির নরক-যন্ত্রণায়। শতাধিক ছোট-বড় বিপজ্জনক গর্ত, জমে থাকা পানি ও কাদা-মাটিতে ঢাকা পড়া এই অংশটিকে চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগের মুখে স্থানীয়রা আখ্যা দিয়েছেন ‘ফুলসিরাত’ হিসেবে।
সম্প্রতি সড়কটির সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) টানা অবহেলায় ধুঁকছে অত্যন্ত ব্যস্ত এই মহাসড়কটি। প্রতিদিন লাখখানেক সাধারণ মানুষ ও সহস্রাধিক যানবাহন ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই পথ পাড়ি দিচ্ছে। পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্তে প্রতিদিন আটকে যাচ্ছে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস। ফলে প্রায়শই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের অত্যন্ত মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
সড়কের সল্টগোলা ক্রসিংয়ের স্থানীয় অধিবাসী সরাফত আলী নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কেয়ামতের দিন ফুলসিরাত পার হতে যেমন কষ্ট হবে, এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ঘরে ফেরা ঠিক ততটাই কষ্টের। অথচ এই সড়ক দিয়ে বন্দরের পণ্যবাহী গাড়ি থেকে শুরু করে শহরের লাখো মানুষ আসা-যাওয়া করে। কিন্তু রাস্তাটির কোনো অভিভাবক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী যেন নেই।”
একই স্থানে কথা হয় যাত্রী ও পোশাক কারখানার শ্রমিক রোকেয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “সন্তানকে স্কুলে আনা-নেওয়া করার সময় সবসময় একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। দোয়া-দরুদ পড়তে পড়তে এই রাস্তা পার হই। দ্রুত এটি সংস্কার না করা হলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটবে।”
সড়কের নিউ ডি. এক্সপ্রেস কাউন্টার, সল্টগোলা ক্রসিং ও বিজিএমইএ হাসপাতালের সামনের পয়েন্টগুলোতে জমে থাকা নোংরা পানিতে প্রতিদিন যানবাহন আটকে যেতে দেখা যায়। এমনকি চলন্ত বাস বা মাইক্রোবাস গর্তে পড়ে বিকল হয়ে পড়ায় গার্মেন্টস কর্মীসহ সাধারণ যাত্রীদের হাঁটুপানিতে নেমে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। তবে ইপিজেডের পর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কটি এবং নগরীর টাইগারপাস, বহদ্দারহাট ও নিউমার্কেট অংশের সড়ক তুলনামূলক ভালো থাকলেও এই ৫ কিলোমিটার অংশ চট্টগ্রামবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ২০০ কিলোমিটার সড়ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে সিটি করপোরেশন নগরীকে ছয়টি জোনে ভাগ করে আপৎকালীন জরুরি মেরামত কাজ শুরু করেছে। তবে বিমানবন্দর সড়কটিতে চাতুরি ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে ক্ষতি বেশি হচ্ছে। সড়কটির বড় একটি অংশ মূল সংস্কার ও তদারকির দায়িত্ব চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ)।”
