ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » অভ্যন্তরীণ চাপে ট্রাম্পের রুশ তেল ক্রয়

অভ্যন্তরীণ চাপে ট্রাম্পের রুশ তেল ক্রয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজ দেশে জ্বালানি সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে নিজের পূর্ববর্তী কঠোর অবস্থান থেকে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসাতে কিছুদিন আগেই নতুন আইন পাস করিয়েছিলেন, এখন সেই রাশিয়া থেকেই সরাসরি জ্বালানি (ডিজেল) আমদানির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর আগামী কয়েক মাস যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় অঙ্কের ডিজেল রপ্তানি করতে সম্মত হয়েছে মস্কো।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। জ্বালানির চড়া দাম ও সার্বিক মূল্যস্ফীতি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনকে চরম সংকটে ফেলেছে, যার ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জনসমর্থনে ব্যাপক ধস নেমেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তাপ এবং ঘরোয়া বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে চরম চাপে রয়েছেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস, টেক্সাস ও ওহাইওর মতো কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোতে জ্বালানি সংকটের আঘাত সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এতে করে নিজের এসব শক্ত ঘাঁটি বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ফেডারেল জ্বালানি কর স্থগিত করা এবং কৃষি খাতের জ্বালানিতে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এমনকি নির্বাচন পার না হওয়া পর্যন্ত ইরানে নতুন কোনো বিমান হামলা না চালানোরও বার্তা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ঘরোয়া সংকট তীব্রতর হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুতিনের হাত ধরতে বাধ্য হলেন তিনি।

এদিকে, রাশিয়া ঠিক কীভাবে জ্বালানি পরিবহন করবে কিংবা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ছাড়পত্রের বদলে তারা কী ধরনের রাজনৈতিক বা কৌশলগত সুবিধা পাবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে এটিকে “পুতিনের জন্য একটি বড় উপহার” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “রাশিয়া এই ছাড়ের প্রতিদান দেবে আরও বেশি সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতা দিয়ে।”

রাজনৈতিক ও বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপে মার্কিন বাজারে তাৎক্ষণিক বড় কোনো স্বস্তি আসবে না। যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক প্রায় ৩৬ লাখ ব্যারেল ডিজেল ব্যবহার করা হয়। সে হিসাবে রাশিয়া চলতি মাসে যে ৩ লাখ টন (প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল) ডিজেল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র অর্ধদিনের (১২ ঘণ্টার) চাহিদার সমান। ফলে নির্বাচনের আগে জ্বালানি মূল্যে বড় দরপতনের সম্ভাবনা খুবই কম।

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের শর্ত ট্রাম্পকে জানালেন পুতিন

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে নতুন কূটনৈতিক মোড় দেখা দিয়েছে। সংঘাত বন্ধের জন্য ইরানের দেওয়া সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, তুর্কমেনিস্তানে সম্প্রতি ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতেই এই বার্তা ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই সংকটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রাশিয়ার ভূমিকা পালনের ইচ্ছাকে ট্রাম্পও স্বাগত জানিয়েছেন।

‘মার্কিন ক্ষোভ শাসনব্যবস্থায় নয়, ইরানি সভ্যতার ওপর’

এথেন্সে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি। রুবিও প্রাচীন গ্রিক ও পারস্যের যুদ্ধের উদাহরণ টেনে ইরান-মার্কিন উত্তেজনার তুলনা করেছিলেন। এর জবাবে বেলায়েতি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের মূল সমস্যা ইরানের বর্তমান ইসলামী শাসনব্যবস্থা নিয়ে নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী ইরানি সভ্যতার ওপরই তাদের চিরন্তন আক্রোশ। হিরোশিমা, ভিয়েতনাম, ইরাক ও আফগানিস্তানে যারা রক্ত গঙ্গা বইয়েছে, অন্য কোনো দেশকে নৈতিকতার পাঠ দেওয়ার অধিকার তাদের নেই।”

‘খামেনিকে হত্যা করা ইসরায়েলের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল’

গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ড ইসরায়েলের জন্য একটি বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলান। তিনি বলেন, খামেনি হয়তো শত্রুপক্ষ ছিলেন, কিন্তু তাঁকে হত্যা করে ইসরায়েল নিজের নিরাপত্তা সংকট আরও বাড়িয়েছে। ২০০৩ সালে ফতোয়া জারি করে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছিলেন খামেনি। তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া ছেলে মোজতবা খামেনি রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁর বাবার চেয়েও অনেক বেশি আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছেন, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে