ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » হিলারি মামলা পুনর্বহাল: সুপ্রিম কোর্টের দ্বারে ট্রাম্প

হিলারি মামলা পুনর্বহাল: সুপ্রিম কোর্টের দ্বারে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কেন্দ্রিক বিতর্কিত আইনি লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত টেনে নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনসহ শীর্ষ রাজনীতিক ও সংস্থার বিরুদ্ধে দায়ের করা তার বহুল আলোচিত দেওয়ানি মামলাটি পুনর্বহালের আবেদন জানিয়ে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে আপিল দাখিল করেছেন তিনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিচারিক আদালত মামলাটিকে ভিত্তিহীন ও ‘রাজনৈতিক ইশতেহার’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে খারিজ করে দেন এবং ট্রাম্প ও তার প্রধান আইনজীবীর ওপর প্রায় ১০ লাখ ডলার আর্থিক জরিমানা আরোপ করেন। পরবর্তীতে আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখলে এবার সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চাইলেন ট্রাম্প।

২০২২ সালে ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় হিলারি ক্লিনটন, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-সিক্স (MI6)-এর সাবেক কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টিল, ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) এবং আরও বেশ কয়েকটি পক্ষকে বিবাদী করা হয়। মামলায় ট্রাম্প অভিযোগ তোলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তার নির্বাচনী প্রচারণাকে কালিমালিপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে তাকে রাশিয়ার সাথে যুক্ত করে একটি অসত্য বয়ান তৈরি করেছিল বিরোধী শিবির। এতে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ক্ষতিকর মিথ্যাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আপিলে ট্রাম্পের আইনজীবীরা যুক্তি দেখান, প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কারণে সময়মতো মামলা দায়ের করা ট্রাম্পের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ফলে আইনি আবেদনের সময়সীমা (স্ট্যাচু অব লিমিটেশনস) শিথিল ও বৃদ্ধি করা উচিত ছিল। আবেদনের ভাষ্যমতে, “প্রেসিডেন্টের পদমর্যাদা ও সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং আইনি মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্ট ও তার আইনজীবীদের সাজা দেওয়ার প্রবণতা বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

তবে নিম্ন আদালতের চিত্র ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। ফেডারেল বিচারক ডোনাল্ড মিডলব্রুকস মামলাটি খারিজ করে কড়া পর্যবেক্ষণে বলেন, এটি ২০০ পৃষ্ঠার একটি রাজনৈতিক ক্ষোভের প্রকাশমাত্র, যা আদালতের বিচারিক সময় অপচয়ের জন্য করা হয়েছে। আদালতের সময় নষ্ট করা এবং আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগে ট্রাম্প ও তার আইনজীবী আলিনা হাব্বাকে যৌথভাবে ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৯ ডলার আইনি ফি পরিশোধের আদেশ দেন বিচারক। আটলান্টাভিত্তিক ১১তম ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলও সেই রায় বহাল রেখেছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়া-ট্রাম্প সম্পর্কের গুঞ্জন ঘিরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হয়েছে। ২০১৯ সালের বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলারের প্রতিবেদনে রুশ হস্তক্ষেপের প্রমাণ মিললেও ট্রাম্পের প্রচারশিবির রাশিয়ার সাথে সরাসরি ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল—এমন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বারের নির্দেশে ২০২৩ সালের ডারহাম প্রতিবেদনে বলা হয়, তৎকালীন এফবিআই যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তড়িঘড়ি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল।

অন্যদিকে, হিলারি ক্লিনটন শিবিরের নিয়োগকৃত ক্রিস্টোফার স্টিলের তৈরি ‘স্টিল ডোজিয়ার’ নথির বেশিরভাগ অভিযোগই ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছিল। তবে আপিল আদালত ও বিচারিক আদালতের রায়ে বলা হয়, মামলা দায়েরের সময় পেরিয়ে যাওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়ার ত্রুটির কারণে ট্রাম্পের এই ক্ষতিপূরণ মামলাটি টিকতে পারে না। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই আপিল গ্রহণ করে শুনানির দিন ধার্য করবে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে