আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুত্ব। এরপর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একসময় পাঠানো হয় যৌন বার্তা, ছবি ও ভিডিও। সেই সম্পর্ককে হাতিয়ার বানিয়ে ভারতের একাধিক নৌবাহিনীর সেনার কাছ থেকে নেওয়া হয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ভারতের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে। ভারতের একাধিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই তালিকায় কদিন আগে আটক হওয়া এক সেনার পর আরও ১৬ জন নৌ বাহিনীর সদস্যের বাড়িতে তল্লাশি করা হয়েছে।
ঘটনা হচ্ছে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে। সেখানের নৌসেনাঘাঁটির এক গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে দেশটির কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স। তদন্তকারীদের দাবি, ওই চালকের মাধ্যমে আরও এক নৌসেনাকর্মীর তথ্য সংগ্রহ করে একই কৌশলে তাকেও ফাঁদে ফেলা হয়।
তদন্তকারী সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ছয় মাস আগে বিশাখাপত্তনমের নৌসেনাঘাঁটির গাড়িচালক আন্নাম সাই ভারাপ্রসাদের কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট’ পাঠান। নিজেকে একটি জাহাজ নির্মাণ সংস্থার কর্মী এবং পাশের রাজ্যের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন তিনি।
প্রথমে সন্দেহ হলেও ধীরে ধীরে ভারাপ্রসাদের সঙ্গে ওই নারীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তিনি ভারাপ্রসাদের ব্যক্তিগত জীবন, কাজ, বেতন এবং কোন ধরনের গাড়ি চালান—এসব তথ্য জানতে থাকেন।
একপর্যায়ে শুরু হয় যৌনগন্ধী বার্তা, ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান। এমনকি বিশাখাপত্তনমে এসে দেখা করার প্রতিশ্রুতিও দেন ওই নারী।
তদন্তকারীদের দাবি, ভারাপ্রসাদ নৌসেনা কর্মকর্তাদের গাড়ি চালান জানতে পেরে তার কাছ থেকে কর্মকর্তাদের সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া শুরু করেন ওই নারী। পরে নৌঘাঁটি ও রণতরী নিয়ে তথ্য চাইলে ভারাপ্রসাদ রাজি হননি। তখন তাকে গ্রেফতার এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এভাবেই কোথায় রণতরী নোঙর করা হয়, কোথায় রণতরী তৈরি হচ্ছে—এ ধরনের নৌসেনা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
পরে হোয়াটসঅ্যাপেও তাদের যোগাযোগ চলতে থাকে। তবে নৌঘাঁটির অভ্যন্তরীণ তথ্য ভারাপ্রসাদের নাগালের বাইরে থাকায় সব তথ্য তিনি দিতে পারেননি বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স প্রায় এক মাস ধরে ভারাপ্রসাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল। তার মাধ্যমেই বাঙালি নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায়ের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন ওই নারী। এরপর একই কৌশলে প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকেও ব্ল্যাকমেল করা হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, প্রদীপের কাছ থেকে বিশাখাপত্তনম ও কোয়েম্বত্তূরের নৌসেনাঘাঁটি সম্পর্কিত তথ্য নেওয়া হয়েছিল।
ভারাপ্রসাদ ও প্রদীপকে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ১০টি রাজ্যে সন্দেহভাজন ১৬ নৌসেনাকর্মীর ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের ১২টি দল।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করে যৌনতার ফাঁদ এবং পরে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে নৌসেনার তথ্য সংগ্রহের একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে তদন্তের সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনো বাকি।
