ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » সীমান্তে জান্তা-আরাকান সংঘাতের প্রভাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সীমান্তে জান্তা-আরাকান সংঘাতের প্রভাব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে রোহিঙ্গা সংকট অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যকার সংঘাতের প্রত্যক্ষ প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় গিয়ে পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত চরম মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক আর্থিক সহায়তা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের সংস্থাসমূহকে মানবিক সাহায্য ও লজিস্টিক সহায়তা পূর্বের ন্যায় উচ্চ মাত্রায় বজায় রাখার জোর আকুল আবেদন জানান, যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের সার্বিক ও অব্যাহত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি জানান, তাঁদের তদন্ত দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে সরেজমিনে পরিদর্শন চালিয়ে দুই শতাধিক ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান গ্রহণ করেছে। সংগৃহীত এসব তথ্য ও অকাট্য প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) পেশ করা হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইআইএমএম কেবল ২০১৭ সালের ঘটনার মধ্যেই তদন্তের কাজ সীমাবদ্ধ রাখছে না; বরং সম্প্রতি আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর রক্তাক্ত সংঘর্ষে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর নেমে আসা সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নথিভুক্ত করছে।

আলোচনাকালে বিজিবি প্রধান সীমান্তে মিয়ানমার অংশের পুঁতে রাখা মারণঘাতী ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আনেন। তিনি জানান, পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে এসব ল্যান্ডমাইন সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় সীমান্তবর্তী কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

বৈঠকে আইআইএমএম প্রতিনিধি দল সীমান্ত পেরিয়ে আসা নতুন ভিকটিমদের তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সাথে যোগাযোগের আগ্রহ দেখালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সায় দেওয়া হয়।

পরিশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমার সরকারের ওপর জোরালো বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং বাস্তুচ্যুত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে স্বভূমে ফেরত পাঠাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে