নবপ্রকাশ ডেস্ক:
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বিশ্বের অন্তত ৬টি মুসলিম দেশ এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে আনুষ্ঠানিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি। তবে কূটনৈতিক কৌশলগত কারণে আগ্রহী দেশগুলোর নাম প্রকাশ করেননি ইসহাক দার।
চুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গঠিত উচ্চপর্যায়ের ‘কৌশলগত রাজনৈতিক প্রতিরক্ষা কমিটি’তে প্রতিটি সদস্য দেশের তিনজন করে সর্বোচ্চ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। তাঁরা হলেন—সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান (সেনাপ্রধান)।
ইসহাক দার জানান, চলতি বছরের ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে শীর্ষ পর্যায়ের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তিন দেশের সেনাপ্রধানদের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বৈঠক সম্পন্ন হয়।
সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কেও তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলাদা দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। চুক্তির শর্তাবলী বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ সদস্য দেশগুলোর মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আগামী সপ্তাহেই রিয়াদে ‘কৌশলগত রাজনৈতিক প্রতিরক্ষা কমিটির’ পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা তুলে ধরে মন্ত্রী ইসহাক দার আরও বলেন, জাতিসংঘের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ফিলিস্তিনের স্বাধিকার আন্দোলন ও কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের অটুট অবস্থান বিশ্বের সামনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করেছেন। একই সাথে ভারতের সাথে বিদ্যমান ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ লঙ্ঘন ও জটিলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে।
