ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: চীনা সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: চীনা সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই জটিল সংকটের স্থায়ী সমাধান ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনে চীনের উদ্যোগ অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা প্রকৌশল, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তি সহ বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন শিল্পখাতে চীনা বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডোর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরসহ বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থ সুরক্ষায় চীনসহ সকল অংশীদারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, সম্প্রসারণ এবং বিশেষ ‘চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ প্রতিষ্ঠার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দেশের শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সার্বিক অর্থনৈতিক যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মত দেন তিনি।

একই সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আরও বেগবান করার অনুরোধ করেন তিনি। চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত বন্ধু ও দীর্ঘদিনের কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনগুলোতে দুদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হবে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ নির্মাণ ও অর্থায়নের প্রতিশ্রুতির জন্য চীনা সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) সাধারণ জনগণের চিকিৎসার সুবিধার কথা মাথায় রেখে জটিল ব্লাড ক্যান্সার চিকিৎসায় চীনা বিশেষজ্ঞ দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করেন তিনি। জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের মানোন্নয়নে চীনের পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই বিদায়ী সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে