ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যা, রিমান্ডে ঘাতক মোস্তফার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

শিশু কলিকে ধর্ষণ ও হত্যা, রিমান্ডে ঘাতক মোস্তফার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

পাবনা প্রতিনিধি, নবপ্রকাশ:

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলি ধর্ষণ ও নির্মম হত্যা মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক তথ্য। গ্রেফতারকৃত প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিক রিমান্ডে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, মাগরিবের নামাজের জায়নামাজ থেকে ওঠার পরপরই শিশুটিকে নিজ দোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তী ১৫ মিনিটের মধ্যে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন।

ডিবি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) বেনু রায় (পিপিএম) জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ড-বিণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন সকালে চিপস কিনতে গেলে মোস্তফা তার ফোনে শিশুটির আপত্তিকর ছবি তোলেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার সুযোগে শিশুটিকে ফুসলিয়ে ভেতরের কক্ষে নিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা নিশ্চিত করেন মোস্তফা।

হত্যার পর অপরাধ ঢাকতে ঘাতক মোস্তফা নাটকীয় ভূমিকা পালন করেন:

  • ছদ্মবেশ ও সহানুভূতি: নিখোঁজের পর রাতে দোকান খুলে স্বাভাবিক আচরণ করেন, পরিবারের সাথে খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেন এবং গভীর রাতে কলির বাবার সাথে ফোনে সার্বিক খবর নেন।

  • আন্দোলনে উপস্থিতি: শিশুটির সন্ধান ও বিচারের দাবিতে স্থানীয়দের আয়োজিত বিক্ষোভ, মানববন্ধনে অংশ নেন এবং মরদেহ উদ্ধারের সময়ও পুলিশ ও সাংবাদিকদের পাশেই অবস্থান করছিলেন।

  • ছবি উদ্ধার: মোস্তফার ফোন পরীক্ষা করে কলিসহ এলাকায় আসা বিভিন্ন উঠতি বয়সী ছোট মেয়েদের আপত্তিকর অসংখ্য ছবি উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা তার পূর্বের অপরাধমূলক মানসিকতা প্রমাণ করে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয় এক ইউপি মেম্বার মোস্তফার হাত ধরলে সে থরথর করে কাঁপতে শুরু করে। সন্দেহ দৃঢ় হলে তাকে আটক করা হয়। মোস্তফার দাবি অনুযায়ী এই জঘন্য অপরাধে দুজন জড়িত ছিল। তবে অপর আসামি তার ভাড়াটিয়া ইয়াসিন আলী ধর্ষণ ও হত্যায় সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে কেবল মরদেহ সরাতে সহায়তার কথা স্বীকার করেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ। ডিএনএ ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য নিহত শিশু ও আসামিদের সব আলামত রাজশাহী সিআইডিতে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন এলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।

এদিকে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে ফুসে উঠেছে স্থানীয় জনতা। আদালত ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ঘেরাওয়ের পাশাপাশি নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী দ্রুততম সময়ে বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে