নবপ্রকাশ ডেস্ক:
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, সম্প্রতি তরুণ তাশফির মৃত্যুর পেছনে পারিবারিক অশান্তি ও একটি সন্দেহজনক ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পরিবার থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হলেও, প্রত্যক্ষদর্শী ও তাশফির বন্ধুদের অভিযোগ—এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য বা হত্যাকাণ্ডের আভাস রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তাশফির বর্তমান বাবা প্রকৃতপক্ষে তার সৎ বাবা এবং তার আসল বাবা বর্তমানে বরিশালে অবস্থান করছেন। তাশফির মায়ের এটি তৃতীয় বিয়ে।
গত ৩০ আগস্ট (২০২৬) মধ্যরাতে তাশফির সাথে তার পরিবারের তীব্র মনোমালিন্য হয়। এ সময় তাশফির মা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করছিলেন বলে তাশফি নিজে তার এক বন্ধুকে মেসেজে জানিয়েছিল। এরপর হঠাৎ করেই তাশফির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা শুরু থেকেই পরিবার গোপন রাখার চেষ্টা করে। ৩১ আগস্ট বিকেলে তাশফির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার তাড়াহুড়ো করে দাফন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয়।
তবে ঘটনাটিতে সন্দেহ দেখা দিলে তাশফির বন্ধুবান্ধব ও স্থানীয় এলাকাবাসী লাশের ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) দাবি জানায়। এতে তাশফির সৎ বাবা সরাসরি অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের মতে, ঘটনাস্থলে আত্মহত্যার স্পষ্ট কোনো আলামত ছিল না; বরং তাশফির মাথার এক পাশ থেকে গলা পর্যন্ত গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। রাত ৯:৩০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার বিষয়ে তাশফির মাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ও গেম খেলার কারণে তাশফির সাথে পারিবারিক বিরোধ তৈরি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর তথ্য লুকিয়ে রাখা ও তড়িঘড়ি দাফনের চেষ্টার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো মৃত সন্তানকে নিয়ে তিনি নানা অসংলগ্ন ও আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন, যা প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে আরও গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
একজন সন্তানকে হারিয়ে কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের অভিভাবকের এমন আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিক ঠেকছে না। এলাকাবাসী ও তাশফির বন্ধুদের দাবি—স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর আসল কারণ উন্মোচন করতে হবে। এটি যদি পরিকল্পিত কোনো হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, তবে জড়িতদের অবিলম্বে শনাক্ত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ।
