ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ৪৭ হাজার কোটির সিগারেট বাজার: ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি

৪৭ হাজার কোটির সিগারেট বাজার: ফাঁকি রোধে কঠোর নজরদারি

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

তামাক খাত থেকে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি ও জাল ব্যান্ডরোলের অপব্যবহার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কাঁচা তামাকপাতা সংগ্রহ থেকে শুরু করে কারখানা, সরবরাহ ব্যবস্থা ও খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো চেইনে তদারকি বাড়াতে ১১ সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের কেন্দ্রীয় মনিটরিং কমিটি এবং মাঠপর্যায়ে ২৭টি বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম গঠন করা হয়েছে।

সম্প্রতি মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বিউটি টোব্যাকো ও ঈশ্বরদীর ইউনাইটেড টোব্যাকো ইন্ডাস্ট্রিজে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট ও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেবল ২০২৫-২৬ অর্থবছরজুড়েই রাজস্ব ফাঁকি ও জাল ব্যান্ডরোল চক্রের বিরুদ্ধে প্রায় ১৮ হাজার ছোট-বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিউরো অব ইকোনমিক রিসার্চ’ ও ‘বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি’ (বিএনটিটিপি)-র যৌথ গবেষণা অনুযায়ী, কেবল বিক্রির ধাপেই বছরে প্রায় ৫ হাজার ১৮২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি হয়। এনবিআর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সিগারেট খাত থেকে ৪৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও, পুরো চেইনের ফাঁকি পুরোপুরি আটকানো গেলে আরও অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বজুড়ে অবৈধ তামাক বাণিজ্যের কারণে সরকারগুলো বছরে ৪০.৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব হারায়। বাংলাদেশেও মোট সিগারেট বাজারের ১৩.১ শতাংশ অবৈধ পণ্যের দখলে। দেশের পাবনা, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরের মতো অঞ্চলগুলোতে নকল বা পুনর্ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল ব্যবহার করে ৬৭টিরও বেশি ব্র্যান্ডের অবৈধ সিগারেট তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও টেকনাফ নৌপথ ব্যবহার করে বিদেশি চোরাচালানকৃত সিগারেটও দেশে প্রবেশ করছে।

নজরদারির নতুন কৌশল ও নির্দেশনা

রাজস্ব সুরক্ষায় গঠিত নতুন এই কাঠামোর আওতায় শুধু বৈধ-অবৈধ সিগারেট শনাক্তকরণই নয়; বরং ব্যান্ডরোলের সঠিক ব্যবহার, কাঁচামাল এবং প্যাকেজিং পেপার থেকে শুরু করে উৎপাদন ও বিপণনের প্রতিটি ধাপ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

  • মাঠপর্যায়ে দিন-রাতের অভিযান: প্রতিটি কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেট অফিস থেকে গঠিত ৫ সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন বাজার, কারখানা ও খুচরা দোকানে দিন ও রাতে অভিযান চালাবে।

  • খুচরা বাজারে সচেতনতা: রিটেইল পর্যায়ে জোর নজরদারি চালানো হবে, যেন দোকানদারদের সতর্ক করার মাধ্যমে নকল বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া সিগারেট বিক্রি পুরোপুরি কঠিন করে তোলা যায়।

  • কাঁচামাল ও পেপার মিলসে নজরদারি: ‘গ্রিন লিফ প্রসেসিং’ বা কাঁচা তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ পর্যায় থেকেই তদারকি বাড়ানো হবে। এছাড়া সিগারেটের কাগজ সরবরাহকারী ৭টি আমদানিকারক ও ২টি স্থানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকেও কঠোর নজরদারিতে আনা হচ্ছে।

এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (সদস্য) জানান, গত ২৫ আগস্ট তামাক সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধি ও কমিশনারেট কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ২৭টি কমিশনারেট ভিত্তিক পৃথক কমিটি গঠনের মাধ্যমে এখন মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ নজরদারি নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে