নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট: সুন্দরবন রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব আচরণে তরুণ প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করতে বাগেরহাটের মোংলায় অনুষ্ঠিত হলো পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বর্জ্য বিষয়ক জরিপ। আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার জয়মনির ছবেদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিবেশবাদী সংস্থা ‘ওয়াইল্ডটিম’ (WildTeam)-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজিত হয়।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে ছিল পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জরিপ পরিচালনা। শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিচ্ছন্নতা, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুন্দরবন ও স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা দিতে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচিসূত্রে জানা যায়, অভিযানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও এর চারপাশ থেকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে অপসারণ করে। একই সঙ্গে বর্জ্যের ধরন ও পরিমাণ নিরূপণে একটি জরিপ চালানো হয়, যা থেকে বিদ্যালয় ও সংলগ্ন এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কয়েক মিলিয়ন মানুষ সরাসরি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মানসৃষ্ট কারণে অবহেলাভরে ফেলা প্লাস্টিক ও পলিথিন সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ও মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ফিরে আসছে। সুন্দরবন কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়; এটি উপকূলীয় পরিবেশ, স্থানীয় জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যের মূল ভিত্তি। সুন্দরবনকে সুরক্ষিত রাখতে আশপাশের জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ছবেদ খান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাম কৃষ্ণ রায়, বন বিভাগের চাঁদপাই স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান, ওয়াইল্ডটিম সদস্য সাদিয়া আফরোজ, মো. সাব্বির হোসেন সম্পদ, বাদশা গাজী, গোলাম রসুল সাদ্দাম, আর্থস্কাউট সদস্য এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী।
আয়োজক সংস্থা ওয়াইল্ডটিমের প্রতিনিধিরা জানান, বিদ্যালয়ভিত্তিক এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে। “পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, সুরক্ষিত সুন্দরবন” স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক পদক্ষেপ সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার তরুণদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। সুন্দরবন বাঁচাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন বিভাগ ও তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তারা।
