লিভারপুলের দায়িত্ব নিয়ে শুরুর দুই ম্যাচে দুর্দান্ত জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন আন্দোনি ইরাওলা। কিন্তু টানা দুই পরাজয়ে যেন কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি অল রেডদের নতুন কোচ। পরপর দুই ম্যাচ হেরে অলরেড ডাগআউটের শুরুতেই ধাক্কা খেলেন তিনি। এমন হারের পর শিষ্যদের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এই স্প্যানিশ কোচ।
কোচিং ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে দ্রুত ছন্দ খুঁজে পাওয়ার আভাস দিলেও টানা এই বিপর্যয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে লিভারপুল। দ্রুত ভুল শুধরে দলকে জেতার ট্র্যাকে ফেরাতে খেলোয়াড়দের শারীরিক সামর্থ্য ও ম্যাচ ফিটনেস নিশ্চিত করাই এখন ইরাওলার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রোববার রাতে ঘরের মাঠে এক প্রীতি ম্যাচে মোনাকোর কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে লিভারপুল। অথচ এই ম্যাচের প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। সেখান থেকে ৩ গোল হজম করে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি।
ম্যাচের ১৬ মিনিটে অ্যালেক্সান্ডার ইসাক ও ২৯ মিনিটে ফ্লোরিয়ান ভির্তজ গোল করলে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে লিভারপুল। কিন্তু ৪৪ মিনিটে অ্যালেক্সান্ডার গোলোভিনের পর ৫৬ মিনিটে মিকা বিয়েরেথ ও ৮৮ মিনিটে প্যারিস ব্রানার গোল করলে জিতে যায় মোনাকো।
এর আগে গত সপ্তাহের রোববার ঘরের মাঠে লিডস ইউনাইটেডের কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল ইরাওলার দল। তবে নতুন কোচের প্রথম দুই ম্যাচে অবশ্য তুলনামূলক দুর্বল সান্ডারল্যান্ড ও রেক্সহামের বিপক্ষে জয় পায় অল রেডরা।
লিডসের পর মোনাকোর কাছেও হেরে তাই কিছুটা বিরক্ত ইরাওলা। ম্যাচ শেষে লিভারপুল টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের দুর্ভাবনার জায়গার কথা বলেছেন তিনি।
“প্রথম অর্ধে, বিশেষ করে প্রথম ৩০ মিনিট আমরা সত্যিই দারুণ খেলেছি। তবে এই ধারায় খেলে যাওয়ার জন্য যে ধরনের ফিটনেস প্রয়োজন, এই মুহূর্তে আমাদের তা কিছুটা কম রয়েছে।”
“আমরা প্রথম দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছিলাম, কিন্তু শেষ দুটি ম্যাচে পুরো খেলা জুড়ে প্রত্যাশিত মান ধরে রাখতে পারিনি। কিছু পরিবর্তন করার পর থেকেই খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হতে শুরু করে, যা আমাদের ছন্দ নষ্ট করে দেয়। স্পষ্টতই, এগুলো নিয়ে আমাদের আরও কাজ করার আছে।”
ফুটবলারদের ফিটনেস যে এখনও যথাযথ পর্যায়ে নেই সেটিও দেখিয়ে দেন লিভারপুল কোচ।
“মূল সমস্যা হলো, পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো শক্তি হয়তো এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের নেই এবং তারা দ্রুত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ছে।”
“তাদের গুছিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে, অনুশীলনেও আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন। তবে আজকের এই ম্যাচ থেকে আমরা যেমন অনেক ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছি, তেমনি কিছু নেতিবাচক দিক বা ঘাটতিও চোখে পড়েছে।”
