ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ১৩ বছর বয়সী মায়ের কোলেই আপাতত থাকছে ৭ মাসের শিশু

১৩ বছর বয়সী মায়ের কোলেই আপাতত থাকছে ৭ মাসের শিশু

ঢাকার হাজারীবাগের আলোচিত ঘটনায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার সাত মাস বয়সী সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত এসেছে। প্রাথমিক শুনানির পর সাত মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুটিকে আপাতত তার মায়ের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়। তবে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্ব কে পাবেন, তা নির্ধারিত হবে পারিবারিক আদালতে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা জেলা লিগ্যাল সামাজিক ও আইনগত গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. সায়েম খানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক চূড়ান্ত শুনানিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।

আইনের প্রয়োগ ও লিগ্যাল এইডের সিদ্ধান্ত শুনানি শেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. সায়েম খান জানান, আইন অনুযায়ী এত ছোট বা দুগ্ধপোষ্য শিশু মায়ের সঙ্গেই থাকার অধিকারী। শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ এবং শারীরিক চাহিদার কথা বিবেচনা করেই তাকে আপাতত মা অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি একটি আইনি বিষয় স্পষ্ট করে বলেন, “সংবাদমাধ্যমের একাংশে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে আদালতের আদেশে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি আদালতের আদেশ নয়, বরং ২০২৫ সালে সংশোধিত আইন অনুযায়ী জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারকে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতার প্রয়োগ।” এই ক্ষমতার বলেই চকবাজার থানাকে নির্দেশনা দিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

কিশোরীর অঙ্গীকার ও প্রতিপক্ষের দাবি শুনানিকালে দুই পক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে শোনেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। শুনানি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত পক্ষ এবং কিশোরী—উভয়কেই কিছু সময় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে রাখা হয়।

আইনগত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়ে কিশোরীটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা টিকটকে আর কোনো ভিডিও তৈরি না করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, এখন থেকে শিশুটির সঠিক লালন-পালনেই তিনি মনোনিবেশ করবেন।

অন্যদিকে, কিশোরীর পরিবারের পক্ষে আইনজীবী মৃণাল কান্তি মিত্র জানান, তাদের মেয়েকে ফুসলিয়ে নেওয়া, তথাকথিত বিয়ে, শারীরিক নির্যাতন ও প্রতারণার অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে অভিযুক্ত শাকিল মিয়া ও তার পক্ষ। তাদের দাবি, কিশোরীর বয়স বাস্তবে ১৩ নয়, বরং ২০ বছর। শাকিল ইতিমধ্যেই শিশুটির স্থায়িত্ব ও অভিভাবকত্ব দাবি করে পারিবারিক আদালতে ‘গার্ডিয়ানশিপ’ মামলা করেছেন। তারা আশা করছেন, আদালতের চূড়ান্ত বিচারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

আলোচিত এই ঘটনার মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কিশোরীর প্রকৃত বয়স নির্ধারণ ও বিয়ের বৈধতার বিষয়টি এখন আদালত কক্ষেই ফয়সালা হতে যাচ্ছে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে