ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » ৯/১১-এর ২৫ বছর: ১৯ ছিনতাইকারী ও এক বদলে যাওয়া বিশ্ব

৯/১১-এর ২৫ বছর: ১৯ ছিনতাইকারী ও এক বদলে যাওয়া বিশ্ব

নবপ্রকাশ ডেস্ক :

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর—যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দিন। সেদিন আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা চালান। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে। আরেকটি আঘাত করে ওয়াশিংটনের পентাগনে। চতুর্থ উড়োজাহাজটি পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এক দিনের সেই হামলায় প্রাণ হারান ২ হাজার ৯৭৭ জন নিরপরাধ মানুষ।

আজ সেই ভয়াবহতম হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এক দিনের ওই ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থাই বদলে দেয়নি, আমূল বদলে দিয়েছে পুরো বিশ্বের ভূরাজনীতি, যুদ্ধনীতি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গতিপথ।

যেভাবে ঘটেছিল হামলা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা

হামলার মূল নেপথ্যে ছিল ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন উগ্রবাদী সংগঠন আল-কায়েদা। তবে ৯/১১-এর ঘটনা হঠাৎ করে ঘটেনি। এর আগে আল-কায়েদা ১৯৯৮ সালে আফ্রিকায় দুটি মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলা এবং ২০০০ সালে ইয়েমেন উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস কোল’-এ হামলা চালিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছিল। বিন লাদেন প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন।

তৎকালীন সময়ে পূর্ব সতর্কতা সত্ত্বেও ২০০১ সালের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। সিআইএ ও এফবিআইয়ের মতো শীর্ষ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে সম্ভাব্য হামলা ও আল-কায়েদা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য থাকলেও, তাদের মধ্যে সমন্বয় ও তথ্য আদান-প্রদানের চরম অভাব ছিল। বিক্ষিপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের ‘টুকরোগুলো’ সময়মতো জোড়া লাগাতে না পারাকে পরে ‘৯/১১ কমিশন’ একটি বিশাল প্রাতিষ্ঠানিক ও গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে।

‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ও বিশ্বরাজনীতি

হামলার মাত্র নয় দিন পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিশ্বজুড়ে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ (War on Terror) ঘোষণা করেন।

  • আফগানিস্তান ও ইরাক আক্রমণ: ২০০১ সালের শেষ দিকে আল-কায়েদাকে ধ্বংস করা ও তালেবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অজুহাতে ইরাকে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

  • মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিতর্ক: পরবর্তী দুই দশক ধরে চলা এসব দীর্ঘ যুদ্ধে সন্ত্রাস দমনের নামে বিশ্বজুড়ে চলে গ্রেফতার, নজরদারি ও কঠোর তল্লাশি। গুয়ান্তানামো বে কারাগারে বিচারহীন আটক রাখা এবং বন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে মার্কিন নীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

গোয়েন্দা সংস্কারের আড়াই দশক

৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র তার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা কাঠামো নতুন করে সাজায়। তথ্য ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে গঠিত হয় ‘ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার’ এবং ‘ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স’-এর মতো নতুন পদ।

বিগত ২৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর মতো বিশাল পরিসরের আর কোনো সন্ত্রাসী হামলা না হলেও হুমকি একেবারেই নির্মূল হয়নি। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) হিসাব অনুযায়ী, এই সময়ে দেশটিতে শতাধিক উগ্রপন্থী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

নতুন বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও আত্মতুষ্টির ঝুঁকি

দুই দশক ধরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে অঢেল সম্পদ খরচের পর, বর্তমানে মার্কিন কৌশলগত মনোযোগের কেন্দ্রে চলে এসেছে রাশিয়া ও চীন।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ভূরাজনৈতিক মনোযোগ বদলে যাওয়ায় সন্ত্রাসবাদের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নিলে আবারও গোয়েন্দা সক্ষমতা ও অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বাজেট কাটছাঁট, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের প্রস্থান এবং নিরাপত্তার বিষয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি পরিস্থিতিকে পুনরায় ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ার এই দিনে মার্কিন নিরাপত্তাব্যবস্থার সামনে একই প্রশ্ন নতুন করে দাঁড়িয়েছে—হুমকির ধরন রূপ পাল্টালেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি আবার সতর্কতা হারাচ্ছে? ৯/১১-এর ভয়াবহ স্মৃতি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, শুধু তথ্য হাতে থাকাই নিরাপত্তা নয়; সঠিক সময়ে সেই তথ্যের সমন্বয় ও সঠিক গুরুত্ব দেওয়াই আসল নিরাপত্তা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে