আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের কৌশলগত অবকাঠামো ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুতিদের এই পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত খারাপ ও জঘন্য আচরণ’ হিসেবে অভিহিত করে মার্কিন প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।
হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন পদক্ষেপ বা সৌদি আরবের যৌথ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আসলে হুতিরা খুবই খারাপ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ করছে। এটি মোটেও ভালো কোনো সংকেত নয়।” এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে, তবে এ নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।
এদিকে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পর পর হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৮ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে গত শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে আঘাত হানা হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩ শতাধিক যাত্রী আহত হন। তার পরদিন রোববার একই বিমানবন্দরে আবারও হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও একাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর পরবর্তী নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সকল ফ্লাইট পরিচালনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আগামী শনিবার পর্যন্ত পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
এই যুদ্ধাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে আবুধাবি থেকে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামগামী অসংখ্য ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। এয়ারলাইনটির তথ্য মতে, আবুধাবি থেকে রিয়াদগামী কোনো ফ্লাইট আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) পর্যন্ত পরিচালনা করা হবে না এবং দাম্মামগামী মঙ্গল ও বুধবারের সকল নির্ধারিত সূচি বাতিল রাখা হয়েছে। একইভাবে রিয়াদ ও দাম্মামগামী পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করেছে কাতার এয়ারওয়েজ।
অন্য দিকে ইয়েমেনের ভেতরের পরিস্থিতিরও মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজে হুতিদের ছোড়া কামানের গোলাবর্ষণে পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সাবা। চিকিৎসাসূত্র নিশ্চিত করেছে, আল-ধাহরা আবাসিক এলাকায় হামলায় আহতদের চারজনই একই পরিবারের সদস্য, যাদের মধ্যে ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী তিনটি শিশু রয়েছে। এ ছাড়া পৃথক গোলাবর্ষণে বীর বাশা এলাকায় ৩০ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান এই রক্তক্ষয়ী উত্তেজনা বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
