নবপ্রকাশ ডেস্ক:
দেশব্যাপী চলমান বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘদিন টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির কারণে দেশে হামের পরিস্থিতি কিছুটা জটিল আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, সময়মতো টিকা না পাওয়া এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৫ এপ্রিল থেকে পরিকল্পিতভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ইউনিসেফের নির্ধারিত তিন ধাপে ১৮টি জেলায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ঢাকা এবং আরও দুটি বড় সিটি করপোরেশনকে এর আওতায় এনে নির্ধারিত সময়ের আগেই গত ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়।
টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির খতিয়ান তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রায় এক হাজার শিশুর দুঃখজনক মৃত্যু ঘটেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সমীক্ষা অনুযায়ী, অপুষ্টি ও নিউমোনিয়াই হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ।
এই সংকট মোকাবিলায় দেশীয় উদ্ভাবনী চিকিৎসার প্রশংসা করে তিনি জানান, আইসিডিডিআর,বির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা ব্যয়ে বোতলভিত্তিক ‘সিপ্যাপ’ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে না পারা আক্রান্ত শিশুদের এই সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে অক্সিজেন সেবা দিয়ে বহু প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশু অন্তর্ভুক্ত হলেও হাম-রুবেলার প্রাথমিক টিকাদানে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ। প্রায় ৪০ লাখ শিশুর এই ব্যবধান ঘোচাতে অনুসন্ধানী উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে বাদ পড়া ১৪ লাখ শিশুকে শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হয়েছে।
হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে ক্যাচআপ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নতুন জন্ম নেওয়া ১০ লাখ শিশু এবং আগে বাদ পড়া ২৪ লাখ শিশু রয়েছে। এজন্য ইউনিসেফ থেকে পাওয়া ১০ দিনের ব্যবধানে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা বিতরণ ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে টিকাদান জোরদার করতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, ইউএনও এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের যৌথ সমন্বয়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার্থে ছুটির দিনে এবং সন্ধ্যার পরও ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুর জন্য টিকাদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বর্তমান ক্যাম্পেইন শেষে স্বাস্থ্য বিভাগে আরও প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা উদ্বৃত্ত মজুত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। একই সাথে তিনি ঘনবসতিপূর্ণ এ দেশে সংক্রামক রোগের ব্যাপ্তি রোধে গণমাধ্যমসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
