ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর–এর কার্গো ভিলেজে ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের কার্গো শেডে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার পরপরই বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিট ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দ্রুত অভিযান শুরু করেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, রাত ১১টা ২৪ মিনিটে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি মালামাল সংরক্ষণাগারে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে উত্তরার ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। দ্রুত সমন্বিত তৎপরতায় মাত্র ১৪ মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ কার্গো শেড এলাকা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিমানবন্দরের আশপাশ এলাকাতেও উদ্বেগ তৈরি হয়।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কার্গো এলাকায় সংরক্ষিত কোনো দাহ্য পদার্থ কিংবা বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের কারণে কিছু সময়ের জন্য কার্গো কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দীর্ঘ সময় আগুন জ্বলতে থাকে এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কয়েক ডজন ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাময়িকভাবে বিমান ওঠানামাও বন্ধ রাখতে হয়েছিল।

পরে ওই ঘটনার তদন্তে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে। তদন্ত প্রতিবেদনে কার্গো ভিলেজে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর ঘাটতির কথাও উঠে আসে। সেখানে ফায়ার অ্যালার্ম, স্মোক ডিটেক্টর ও পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বিপজ্জনক ও দাহ্য পণ্য যথাযথ নিরাপত্তা ছাড়াই সংরক্ষণ করা হচ্ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিমানবন্দরের কার্গো বিভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমানবন্দরের কার্গো এলাকায় বারবার আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা দ্রুত আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপন, নিরাপত্তা তদারকি বাড়ানো এবং দাহ্য পণ্য সংরক্ষণে কঠোর নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে