বিনোদন ডেস্ক: বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সংজ্ঞা চিরতরে বদলে দিয়েছিল যে নামটি, সেটি হলো ‘স্টার ওয়ার্স’। ১৯৭৭ সালে জর্জ লুকাসের হাত ধরে শুরু হওয়া এই স্পেস অপেরা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আজ শুধু সিনেমাপ্রেমীদের প্রিয় নামই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে একটি পপ-কালচারাল ফেনোমেননে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি চলচ্চিত্র সমালোচক ও দর্শকদের চুলচেরা বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে এই গ্যালাক্সির সেরা ৫টি সিনেমার একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নিচে সেই মহাকাব্যিক সিনেমাগুলোর ব্যবচ্ছেদ তুলে ধরা হলো:
৫. দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস (২০১৫)
জে. জে. আব্রামস পরিচালিত ‘এপিসোড ৭’ সিনেমাটি ছিল পুরনো ও নতুনের এক চমৎকার সংমিশ্রণ। এটি যেমন ফ্র্যাঞ্চাইজির পুরোনো ঐতিহ্যকে উদযাপন করেছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের কাস্টদের জন্য এক মজবুত ভিত্তি তৈরি করেছিল। পরিচালক আব্রামস খুব চতুরতার সাথে পুরোনো ‘স্টার ওয়ার্স’ সিনেমাগুলোর নস্টালজিয়াকে এখানে কাজে লাগিয়েছেন।

৪. রোগ ওয়ান: আ স্টার ওয়ার্স স্টোরি (২০১৬)
মৌলিক গল্পের দিক থেকে এই স্পিন-অফ সিনেমাটি ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম সেরা সৃষ্টি। ‘এ নিউ হোপ’ সিনেমার ঠিক আগে প্রিন্সেস লেয়ার জাহাজে ডার্থ ভেডারের ওঠার আগে কী ঘটেছিল—সেই রহস্যেরই এক রোমাঞ্চকর উত্তর দেয় এই ছবি। পরিচালক গ্যারেথ এডওয়ার্ডসকে বেশ কিছু জটিল রি-শুট করতে হলেও, সময়ের সাথে সাথে এই সিনেমাটির গ্রহণযোগ্যতা ও আবেদন দর্শকদের কাছে বহুগুণ বেড়ে গেছে।

৩. দ্য লাস্ট জেডি (২০১৭)
পরিচালক রিয়ান জনসন এই সিনেমার মাধ্যমে স্টার ওয়ার্স মহাবিশ্বে সম্পূর্ণ নতুন এবং মৌলিক এক মোড় এনেছিলেন, যা ছিল প্রায় অসম্ভব একটি কাজ। জেডিদের মিথলজি (পৌরাণিক কাহিনী) এবং সিনেমার সূক্ষ্ম আবেগগুলোকে তিনি এত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যা দর্শকদের অনেককে চমকে দিয়েছে, আবার অনেককে হাসিয়েছে। সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, এর সিনেমাটিক মেধার প্রতি সম্মান জানাতে বাধ্য হয়েছেন সবাই।

২. আ নিউ হোপ (১৯৭৭)
যে সিনেমাটি দিয়ে এই রূপকথার জন্ম হয়েছিল! সায়েন্স ফিকশন জনরা এবং হলিউডের ‘ব্লকবাস্টার’ ধারণাকেই বদলে দিয়েছিলেন জর্জ লুকাস। এর অসাধারণ ভিজ্যুয়াল এফেক্টস এবং আবহ সঙ্গীত চলচ্চিত্র জগতের ব্যাকরণ নতুন করে লিখেছিল। পরবর্তী সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি যত বড়ই হোক না কেন, এই সিনেমার ভিত্তি ছাড়া আজকের ‘স্টার ওয়ার্স’ অসম্ভব ছিল।

১. দ্য এম্পায়ার স্ট্রাইকস ব্যাক (১৯৮০)
স্টার ওয়ার্স ইতিহাসের সর্বকালের সেরা সৃষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয় এই সিক্যুয়েলটিকে। জর্জ লুকাস নিজে পরিচালকের আসন ছেড়ে ইরভিন কার্শনার এবং চিত্রনাট্যকার লরেন্স ক্যাসডানের হাতে দায়িত্ব দেওয়াটাই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত। সিনেমাটি কেবল ভালো আর মন্দের সাধারণ লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে এক অন্ধকার ও বহুমাত্রিক গল্পে রূপ নেয়। লুক স্কাইওয়াকারের বাবা হিসেবে ডার্থ ভেডারের আত্মপ্রকাশের সেই অবিশ্বাস্য টুইস্টটি আজও চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম সেরা দৃশ্য। এছাড়া কার্বোনাইটে হ্যান সোলোর জমে যাওয়ার সেই শটটি আজও দর্শকদের গায়ে কাঁটা দেয়।
প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত তথ্য:
১. বক্স অফিসের রাজা: এই তালিকার ৫ নম্বরে থাকা ‘দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’ বিশ্বব্যাপী ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যবসা করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাগুলোর তালিকায় শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছিল।
২. অস্কারের মঞ্চে আধিপত্য: ১৯৭৭ সালের ‘আ নিউ হোপ’ সিনেমাটি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে (অস্কার) সেরা চাক্ষুষ প্রভাব (Visual Effects) এবং সেরা আবহ সঙ্গীতসহ মোট ৬টি অস্কার জিতে ইতিহাস তৈরি করেছিল।
৩. জুলিয়ান মেমোরিয়াল অ্যান্ড সাউন্ড ডিজাইন: স্টার ওয়ার্সের সাফল্যের পেছনে বেন বার্টের তৈরি করা সাউন্ড ডিজাইন (যেমন: লাইটসেবারের শব্দ বা ডার্থ ভেডারের ভারী শ্বাসের শব্দ) সিনেমাগুলোকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
