ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ১৪ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দিলেও ভোগদখল থাকবে বাবা-মায়ের: আইনমন্ত্রী

সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ-দখলের অধিকার বাবা-মায়ের হাতে রাখার বিধান যুক্ত করে সরকার ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ সংশোধনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এমন তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই আইনি পরিবর্তনের ফলে আদালতে দেওয়ানি বা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে, যার বড় অংশই মূলত সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে তৈরি হয়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের মুসলিম আইনে হেবা হয়, হিন্দু আইনে উইল হচ্ছে, আবার আমাদের মুসলিম আইনে ওয়াসিয়তনামা হচ্ছে।

বিদ্যমান হেবা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা যদি হেবা করে দেন, সঙ্গে সঙ্গে তাদের হাত থেকে সম্পত্তি চলে যাচ্ছে। তারা নিজেদের সম্পত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তী সময়ে সন্তানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ছেলে-মেয়ে যদি তাদের না দেখে, তাহলে কিন্তু বাবা-মার আর কিছু করার থাকে না, তারা অসহায় হয়ে পড়ছেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, হেবার পাশাপাশি ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) গিফটের একটা ধারা রয়েছে, যেখানে সাধারণভাবেই হেবার বাইরে গিয়ে যে কেউ গিফট করতে পারেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের বিধান যুক্ত করার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত এই নিয়ম অনুযায়ী, সন্তানকে সম্পত্তি গিফট করার পরও বাবা-মা তাদের জীবদ্দশায় সেটি ভোগদখল করার অধিকার নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, বাবা-মায়ের জীবনদশায় দুই পক্ষের সম্মতি ছাড়া কেউই ওই সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না। সন্তান যেমন বিক্রি করতে পারবে না, তেমনি বাবা বা মা চাইলেও এককভাবে বিক্রি করতে পারবেন না।

তবে বিশেষ প্রয়োজনে ছাড়ের বিধান থাকছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে বাবার চিকিৎসার দরকার এবং এই সম্পত্তি বিক্রি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব নয়, কিন্তু সন্তান বিক্রিতে সম্মতি দিচ্ছে না, সেক্ষেত্রে জেলা জজকে একটা ক্ষমতা দেওয়া থাকছে। জেলা জজে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন।

এই সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে সিভিল মামলা ফাইলিং কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা কাজ করতে চাই, আমরা পরিবর্তন করতে চাই জনগণের কল্যাণে। জনগণের কল্যাণে পরিবর্তন করতে আমাদের যেখানে যেভাবে সম্ভব আমরা করব।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে