ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ৫ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
Home » সর্বশেষ » শিক্ষার্থী ৫, শিক্ষক ৭—তবুও কেন শূন্য ফল ময়মনসিংহে?

শিক্ষার্থী ৫, শিক্ষক ৭—তবুও কেন শূন্য ফল ময়মনসিংহে?

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে বেশ আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন পাঁচজন শিক্ষার্থী। তাদের জন্য শিক্ষক ছিলেন সাতজন। তবে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করতে পারেনি একজনও।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ৯৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক আছেন সাতজন। তবে গণিতের শিক্ষক প্রবাসে চলে যাওয়ায় বর্তমানে পদটি শূন্য রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসত না। অভিভাবক সমাবেশ করেও অভিভাবকদের কাছ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তির কারণে ফলাফলে এ বিপর্যয় ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, এ বিপর্যয়ের দায় শিক্ষকদেরও রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা যায়নি। এ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন এমন কয়েকজনের চাকরির বয়সও এখন প্রায় শেষের দিকে।

ফুলবাড়িয়া মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা বলেন, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর তেমন কার্যক্রম নেই। ওরা আসলে কাগজে শিক্ষার্থী দেখিয়ে পরীক্ষা দেওয়ায়। এ বিষয়ে খতিয়ে দেখব।

অন্যদিকে, মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখায় ২০২২ সাল থেকেই কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রয়েছে।

জানা গেছে, এমএন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের একটি অনুমোদনহীন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়। এ কারণে এ বছর ওই প্রতিষ্ঠানের চারজন শিক্ষার্থী মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের নামে পরীক্ষায় অংশ নেন।

মুক্তাগাছা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বজরং আগারওয়ালা জানান, মানবিক কারণে আগের অধ্যক্ষ ওই শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এবার যে চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, বিষয়টি তার জানা ছিল না।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শাহাদত উল্লাহ বলেন, বোর্ডের আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফরম পূরণ করায় এ ঘটনার পুরো দায়ভার কলেজ কর্তৃপক্ষের।

তিনি বলেন, নিজস্ব শিক্ষার্থী না থাকা সত্ত্বেও অন্য একটি অস্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ানো স্পষ্ট অনিয়ম এবং তথ্য গোপনের শামিল। অনতিবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটিকে তলব করা হবে। সঠিক জবাব দিতে না পারলে প্রতিষ্ঠানটির স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ করা হবে।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে