—জিয়া উদ্দিন—
আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রও
একদিন নিভে যাবে—
সময় তার দীপ্তি কেড়ে নেবে নীরবে।
আমাদের অন্তরের সুবাসিত পাপড়িগুলো
ধীরে ধীরে হারাবে সুবাস,
হিংসার জ্বলন্ত উনুনও
শীতল হয়ে ধূসর ছাইয়ে পরিণত হবে।
তবু যারা আঁধারের গভীরে
আলোর মিছিল বুকে নিয়ে হেঁটেছিল—
দুর্ভেদ্য কাঁটার পথ পেরিয়ে
তারা পৌঁছে যাবে মঞ্জিলে,
নিজের বুকেই আঁকবে আলোর আলপনা।
তোমরা পেছন থেকে ছুরি বসাও—
বিশুদ্ধ আত্মা তবু থামে না;
“লা-শারীকাল্লাহ” উচ্চারণে
তার কণ্ঠে জ্বলে ওঠে অনন্তের শিখা।
মুখের পাপড়িতে ঝলমলে হাসি নিয়ে
সে ধীরে ধীরে পাড়ি দেয় ওপারে।
এপারের কিছুই সে চায়নি—
চাওয়ার জন্য আসেনি সে কখনো।
তার অন্তরে অন্দরে ছিল
মানবতার প্রোজ্জ্বল ইশতেহার।
আজ সে ক্রুশবিদ্ধ—
তোমাদের অট্টহাসি, তীব্র ও নির্মম,
তার প্রশান্ত, মায়াবী হাসির সামনে
নিঃশব্দে ম্লান হয়ে যায়।
সে কে ছিল?
জানে কেবল অন্তর্যামী—
যারা সত্যের অনুগামী,
জীবন তাদের মমতার সালতামামি।
কেউ কি দেখেছে যুগান্তরের অন্য রকম ঢেউ, আমার ভেতর আমি কি আজ দ্বীপান্তরে রুপান্তরের কেউ।
