ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধানের ঢাকা সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা জল্পনা-কল্পনা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘র’-প্রধান চীন থেকে ঢাকায় এসেছেন এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রয়োজন মনে করলে সফর শেষে সরকার এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে পারে। তবে এ নিয়ে গোপনীয়তা বা বাড়তি জল্পনার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রধানও সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের হাইকমিশনারের একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন। হাইকমিশনার বলেছেন, প্রতিবেশী পরিবর্তন করা যায় না—’বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না’, পররাষ্ট্রনীতিতে প্রচলিত এই ধারণার কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন বাংলাদেশের।
ডা. জাহেদ উর রহমান ব্যাখ্যা করেন, এই পুনর্বিন্যাসের অর্থ হলো—অতীতে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নির্দিষ্ট কোনো দল বা ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে যেভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে সেই ধারা থেকে সরে এসে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতের বক্তব্যেও এখন জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উঠে আসছে।
দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত থাকা উচিত বলে মনে করেন তথ্য উপদেষ্টা। তবে তার ভাষ্য, শেখ হাসিনার আমলে ভারতের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে যেভাবে কাজ করেছে, তা ভবিষ্যতে গ্রহণযোগ্য হবে না।
নিরাপত্তা প্রশ্নে দুই দেশেরই নিজস্ব বক্তব্য থাকতে পারে এবং সে বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। তবে তার কথায়, “এসব আলোচনা হতে হবে দুটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল দেশের সম্পর্কের ভিত্তিতে।”
