ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » যুদ্ধবিরতি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই পেজেশকিয়ানের

যুদ্ধবিরতি হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নেই পেজেশকিয়ানের

নবপ্রকাশ ডেস্ক:

পূর্বে হওয়া আলোচনার মাঝেই নতুন করে সামরিক হামলা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর কোনো আস্থা রাখতে পারছে না ইরান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান। তবে গভীর চরম অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো সর্বশেষে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

এর আগে শনিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিরসন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইরানের পেশ করা সাম্প্রতিক প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে বাধ্য হয়েই ইরান এমন চুক্তি করতে চাইছে।

জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও প্রস্তাব পাঠায় তেহরান। এ পরিকল্পনার অধীনে মার্কিন প্রশাসনকে ইরানি সমুদ্রবন্দরের ওপর থেকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা বাতিল, অবরুদ্ধ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। এসব শর্ত বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের মূল চ্যানেল হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য খুলে দেবে ইরান।

বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথটি অবরুদ্ধ করার দায় মার্কিন নীতির ওপর চাপিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই কৌশলগতভাবে ইরানের বাণিজ্যিক পথ বন্ধ করে রেখেছিল। ফলে প্রণালিটি বন্ধ করা ছিল তেহরানের স্বাভাবিক ও আত্মরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া। শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, আলোচনার পথ ধরে যুদ্ধ বন্ধ হলে অবিলম্বে প্রণালিটি বাণিজ্য জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের মূল আগ্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে ইরানি প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরান গত ২০০ বছরে কোনো দেশে আগ বাড়িয়ে আক্রমণ করেনি। অথচ ইরানের শাসনব্যবস্থা কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙে পড়বে—এমন ভুল ধারণায় বিশ্বাসী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ইরানি সামরিক কমান্ডারকে হত্যা কিংবা অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে ইরানি জাতিকে কখনো নতজানু করানো যাবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে