ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
ঢাকা
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
শেষ আপডেট ৩৮ সেকেন্ড পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মাধ্যমিক স্তরেও ‘মিড–ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা, ড্রেস-জুতা-মোজা পাবে শিক্ষার্থীরা

মাধ্যমিক স্তরেও ‘মিড–ডে মিল’ চালুর পরিকল্পনা, ড্রেস-জুতা-মোজা পাবে শিক্ষার্থীরা

মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্যও চালু হতে যাচ্ছে ‘মিড ডে মিল’ এবং বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও মোজা বিতরণ কর্মসূচি। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করতে এ ধরণের বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।
এজন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ শিরোনামে বিশাল এই স্কিমটি হাতে নিয়েছে।
জানা গেছে, দেশের পিছিয়ে পড়া ১ হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছর থেকেই এই কর্মসূচি চালু হবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে উপকৃত হবে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী।
উদ্যোগটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বিবেচনা করে শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কার্যক্রমে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ ওঠায় কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া খাবারের মান তদারকি করতে গিয়ে অনেক শিক্ষককেই বাড়তি মানসিক ও কাজের চাপ পোহাতে হচ্ছে। তাই মাধ্যমিক স্তরে এই কর্মসূচি সফলভাবে চালুর ক্ষেত্রে আগে থেকেই সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং একটি কার্যকর তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাউশি থেকে জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের (এসইডিপি) আওতায় এই নতুন স্কিমটি চালু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় স্কিমটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে এর দলিল তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই স্কিমটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও ধরে রাখার হার বাড়াতে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই এই স্কিমের মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিক মূল্যবোধ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণের সমন্বিত বিকাশ ঘটিয়ে তাদের দক্ষ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা এবং বিদ্যালয়ে একটি স্বাস্থ্যসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই এই উদ্যোগের প্রধান কাজ।
তারা মনে করেন, স্কুল ড্রেস ও মিড ডে মিলের পাশাপাশি কমন রুম তৈরির কারণ হলো আমাদের দেশের বিদ্যালয়গুলোয় অনেক দূর থেকে শিক্ষার্থীরা আসে। অনেক সময় বৃষ্টিতে ভিজে যায় আবার কখনো দূর থেকে হেঁটে এসে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই স্কুলে এসে যাতে একটু বিশ্রাম নিতে পারে, সেজন্য কমনরুম তৈরি করা হয়েছে। আর সরকার আনন্দময় শিক্ষার পাশাপাশি ডিভাইস-নির্ভরতা কমাতে সুস্থ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে চায়। এজন্য খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের কিছু নির্ধারিত ক্লাসে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নিয়ে আলাদা বই থাকছে।
সূত্রমতে, সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে পাঁচ বছর। অর্থাৎ চলতি জুলাই থেকে ২০৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ জুন পর্যন্ত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার এক হাজারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেওয়া হবে দুপুরের খাবার। জনপ্রতি একজন শিক্ষার্থীর খাবারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হবে ১২০ টাকা। এতে মোট খরচ হবে ২ হাজার ৮৭২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আর এসব স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থীকে ৪ হাজার টাকা দামে বছরে দেওয়া হবে দুই সেট স্কুল ড্রেস, আর দেড় হাজার টাকা দামের এক জোড়া জুতা ও মোজা। এতে পাঁচ বছরে স্কুলে ড্রেসের পেছনে ৪১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা, জুতা-মোজার পেছনে ব্যয় হবে ১৫৬ কোটি ১২ লাখ টাকা। বাকি টাকা খরচ হবে কমনরুম, স্বাস্থ্য উপকরণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ আনুষঙ্গিক খাতে। তবে এসব বরাদ্দ অনুমান করে ধরা হয়েছে, তা বাড়তে বা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দীন আল মাহমুদ সোহেল জানান, তাদের মূল লক্ষ্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করা। এজন্য শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস, দুপুরে পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাবার, বিশ্রামের জন্য পৃথক কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাসিমুখে বিদ্যালয়ে আসে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে যে ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এটি তারই একটি অংশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে খুব দ্রুতই স্কিমটি অনুমোদন পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
স্কিমটির অগ্রগতি সম্পর্কে মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর ড. মীর জাহীদা নাজনীন জানান, ইতিমধ্যে স্কিমটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই আরেকটি ওয়ার্কশপের আয়োজন করে এটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই মাঠপর্যায়ে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
স্কিমটি চালু হলে মাধ্যমিক স্তর থেকেও শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে