নবপ্রকাশ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশের ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম আক্তারের রহস্যজনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়েরকৃত আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের জামিনে কোনো আপত্তি নেই জানিয়ে আদালতে আপসনামা জমা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার মৃত মরিয়ামের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল হালিম মোড়লের স্বাক্ষরসংবলিত এই আপসনামা আদালতে দাখিল করা হয়।
আদালতে জমা দেওয়া আপসনামায় বলা হয়, আসামি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের জামিন মঞ্জুর হলে মামলার বাদীপক্ষ কিংবা নিহতের পরিবারের সদস্যদের কোনো আপত্তি থাকবে না। ভবিষ্যতে উভয় পক্ষই পারিবারিক ও সামাজিক সৌহার্দ্য রক্ষা করে চলবে এবং বিচারাধীন বিষয়ে নিরপেক্ষ থেকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
আপসনামা জমা দেওয়ার পর আসামিপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফায়ত উল্লাহ ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় সংসদ সদস্যের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে মূল আসামি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, শুনানি চলাকালে মামলার বাদী নিজে কাঠগড়ায় উপস্থিত থেকে দুই আসামির জামিনে তাঁর সম্মতি জানান। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান ও মিফতাহুর রহমান আদালতে যুক্তিতে বলেন, তাঁদের মক্কেলরা নির্দোষ এবং মামলার বাদীর সঙ্গেই মূল বিষয়টি আপস-মীমাংসা হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম আক্তারের লাশ উদ্ধারের পর আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে এই মামলা করা হয়। মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও জোনাল টিম সংসদ সদস্য গাজী নজরুলকে দু দফায় মোট ৮ দিনের এবং প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। গত ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদাকে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে সোমবার ডিবি পুলিশ সংসদ সদস্য নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানালে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
