ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ১ মিনিট আগে
ঢাকা
ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬
শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
Home » সর্বশেষ » মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: রকেট গতিতে বাড়ছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা: রকেট গতিতে বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া এবং বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সংকুচিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।

গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর ২০২৬) বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দরও এক লাফে বেড়ে বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছে।

এক দিনেই বড় দরবৃদ্ধি

বাজার বিশ্লেষণের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার কার্যদিবস শেষে ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বর ডেলিভারি ফিউচারসের দাম ৩ দশমিক ৯৪ মার্কিন ডলার বা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে স্থির হয়। এর আগে চলতি বছরের মে মাসের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দর আন্তর্জাতিক বাজারে এতটা উঁচুতে ওঠেনি।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত সেপ্টেম্বরের পর দেশটির বাজারে জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ দর।

সপ্তাহজুড়ে হিসাব করলে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক ব্রেন্ট ক্রুডের সার্বিক দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রে ডব্লিউটিআইয়ের দর সপ্তাহজুড়ে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত লাফ দিয়েছে। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বাজারে তেলের দরবৃদ্ধির চাপ ছিল অনেক বেশি চড়া।

সৌদির অবকাঠামোতে হামলার গুঞ্জন ও বাজার উদ্বেগ

বিশ্বখ্যাত জ্বালানি গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থা ‘এনার্জি অ্যাসপেক্টস’ (Energy Aspects)-এর সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামোয় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার গুজব ও আশঙ্কার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই মূল সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ভয় জোরালো হয়। এর প্রভাবেই বাজারে সাম্প্রতিক মৃদু দরপতন কাটিয়ে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই উভয় বেঞ্চমার্কেই তীব্র ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকারক অঞ্চল থেকে স্বাভাবিক সরবরাহ রুট নিশ্চিত রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে লোহিত সাগর বা প্রণালী অঞ্চলে নৌপথ বিঘ্নিত হওয়া কিংবা সৌদি আরবের মতো বড় উৎপাদকের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে বড় ধাক্কা দেবে।

মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে অভিঘাতের শঙ্কা

সাধারণত তেলের ঘাটতি বা সরবরাহ সংকটের যেকোনো শঙ্কা সৃষ্টি হলেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার উৎপাদন খরচ এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় সরাসরি বৃদ্ধি পাবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনার জের ধরে বিশ্বব্যাপী নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে পারে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো।

তবে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এখন পর্যন্ত প্রধানত বাজারে গুঞ্জন হিসেবেই বিরাজ করছে এবং কোনো নিশ্চিত ধ্বংসের আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আন্তর্জাতিক তেলের দর কোন দিকে যাবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের আগামী কয়েক দিনের সামরিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

নবপ্রকাশ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য:

সর্বশেষ খবর

আরো দেখতে