নবপ্রকাশ ডেস্ক:
একসময় তাঁর কণ্ঠ শুনে পরিবারের একজন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—এই মেয়েই একদিন পরিবারের ভাগ্য বদলে দেবে। সেই উক্তি সত্য প্রমাণ করে মাত্র ছয় বছর বয়সে শুরু হওয়া পথচলায় দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত ইতিহাস নতুন করে লিখেছিলেন নূরজাহান। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) উপমহাদেশীয় সংগীতের কিংবদন্তি ও ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’ (সুরের রানি) খ্যাত নূরজাহানের জন্মশতবর্ষ।
১৯২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের কাসুরে এক সংগীত পরিবারে জন্ম নেন নূরজাহান। শৈশবে গানের তালিম শুরু করার পর কলকাতায় গিয়ে তাঁর সংগীতের পরিধি বাড়ান।
শিশুশিল্পী হিসেবে সিনেমা জগতে পা রেখে খুব দ্রুতই বোম্বে চলচ্চিত্র জগতের প্রথম সারির নায়িকা ও গায়িকা হিসেবে স্থান করে নেন। তবে ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় সুপ্রতিষ্ঠিত তারকাজীবন ছেড়ে নতুন দেশ পাকিস্তানে পাড়ি জমান তিনি।
পাকিস্তানে নতুন করে সংগ্রাম শুরু করেন নূরজাহান। তিনি কেবল গায়িকা ও অভিনেত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেননি; চলচ্চিত্র প্রযোজনা, স্টুডিও নির্মাণ, পরিচালনা ও নিজের পারিশ্রমিক নিজে নির্ধারণের মাধ্যমে আত্মমর্যাদার নতুন দৃষ্টান্ত গড়েন।
পরবর্তীকালে অভিনয় ছেড়ে পুরোপুরি সংগীতে মন দেন তিনি। তাঁর আবেগীয় গায়কি ও সুরের জাদু তাঁকে পৌঁছে দেয় ‘মালিকা-ই-তারান্নুম’ বা সুরের রানির অনন্য মর্যাদায়। শততম জন্মবার্ষিকীতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সংগীতপ্রেমী শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন কালজয়ী এই সংগীতশিল্পীকে।
