আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ আগামী সপ্তাহের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
নতুন শুল্ক কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত, জাপান, মেক্সিকোসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারের রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে। ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন শুল্কের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন, ভারত, মেক্সিকো, জাপান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ও ব্যবহার বন্ধে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে মার্কিন উৎপাদকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক ব্যবস্থার একটি অংশ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপিত আগের শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে। এবার সেই জটিলতা এড়াতে ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি কানাডার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ এবং ব্রাজিলের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যকে শুল্কমুক্ত রাখা এবং নির্দিষ্ট ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই নতুন শুল্ক পরিকল্পনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন দেশটির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নতুন শুল্ক কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়তে পারে, ব্যাহত হতে পারে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়তে পারে উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানি খাত।
